বিশ্ব সংবাদ

কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি তেহরানের

পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরাইলের ‘নাশকতা’

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরাইল ‘নাশকতা’ চালিয়েছে বলে দাবি করে কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। গতকাল সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, রোববার নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা দুর্ঘটনায় ইসরাইল জড়িত এবং এর প্রতিশোধ নেয়া  হবে। খবর: রয়টার্স, পারসটুডে।

এক দিন আগের এ ঘটনাকে ‘পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ; বলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার তেহরানের রয়েছে। গত রোববার ইরানের ইস্পাহাুন প্রদেশের নাতাঞ্জ কাউন্টির ভূগর্ভস্থ এ পারমাণবিক কেন্দ্রে বৈদ্যুতিক গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাভেদ জারিফ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে আমাদের অগ্রগতির কারণে ইহুদিবাদীরা প্রতিশোধ নিতে চায়। তারা প্রকাশ্যে বলেছে, আমাদের এটি করতে দেবে না। কিন্তু আমরা ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবো।’

এদিকে ইসরাইলের বেশ কিছু গণমাধ্যমে অজ্ঞাত গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ একটি সফল  নাশকতা অভিযান (সাইবার হামলা) পরিচালনা করেছে। এর ফলে সেখানে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের কাজ কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইসরাইল নাতাঞ্জ নাশকতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নাতাঞ্জের বেশিরভাগ ভূগর্ভে অবস্থিত। দেশটিতে যে কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারির অনুমতি রয়েছে, নাতাঞ্জ সেসবের একটি।

এদিকে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাতাঞ্জের নাশকতাকে ‘মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এতে কোনো ধরনের দূষণ কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

খাতিবজাদেহ বলেন, নাতাঞ্জের সেন্ট্রিফিউজগুলো প্রথম প্রজন্মের ছিল। এখন সেখানে উন্নত সেন্ট্রিফিউজ বসানো হবে। নাতাঞ্জে যা ঘটেছে তা ইরানের পারমাণবিক শিল্পের অগ্রগতিকেও যেমন থামিয়ে দেবে না, তেমনি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত চলমান প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারবে না।

তিনি বলেন, নাতাঞ্জের ঘটনার বিষয়ে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবে তেহরান। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরানও আত্মরক্ষার অধিকার রাখে। নাতাঞ্জে যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হয়েছে, তাতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারত, কাজেই এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ঘটনার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ব্যাপারে আমাদের ধারণা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমাদের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছেন। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, ইরান নাতাঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজকে আরও শক্তিশালীভাবে সমৃদ্ধ করবে।

প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে পাঁচ বিশ্ব শক্তির স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে তিন বছর আগে বেরিয়ে যায় ওয়াশিংটন। এ চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গত সপ্তাহে ইরান ও বিশ্ব শক্তিগুলো বৈঠক করে। এ বৈঠক গঠনমূলক হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..