কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে

ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনীতে পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইতিহাস কিংবা অতীতের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়, কিন্তু চাইলে নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করা যায়। আর এ বিষয়টি তরুণদের হাতেই আছে। শুধু স্বপ্ন দেখেই নয়, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।’

গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অয়োজিত হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলসহ ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ এবং টেকনোহেভেন কোম্পানি যৌথভাবে এই আয়োজন করছে। এছাড়া অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে এফবিসিসিআই, বেসিস, আইবিএ, এসিআই, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউথ পলিসি ফোরাম ও একাত্তর টিভি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম, হংকং ব্লকচেইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. লরেন্স মা, গ্লোবাল ব্লকচেইন বিজনেস কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক মিস সান্দ্রা রো, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ প্রমুখ। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডের চেয়ারম্যান ও টেকনোহেভেনের প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুল্লাহ এন করিম।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি চিন্তা, গবেষণা, বাইরে যাওয়া, অ্যাডভেঞ্চার, ঝুঁকিগ্রহণ, স্টার্টআপ প্রভৃতি ক্ষেত্রেও নিজেকে নিযুক্ত করতে হবে। সবশেষে তিনি এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক কনটেস্ট বাংলাদেশে আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত ও সত্যিই আনন্দিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পর্বে ‘ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ ২০২১’-এর বিজয়ী ১২টি দল এ আয়োজনের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। পলক বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতের অগ্রগতির মশাল বহণকারী। আমি বিশ্বাস করি, ২০২২ সালের আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী অংশ নেবেন।

হংকং ব্লকচেইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. লরেন্স মা বলেন, এ বছর করোনা পরিস্থিতির জন্য এমন একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করা অনেক কঠিন ছিল। বাংলাদেশ এত সুন্দরভাবে এ কাজটা সফলতার সঙ্গে করতে পেরেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে মনে করেন ড. লরেন্স মা। পরিশেষে, ওই অনুষ্ঠানে গ্লোবাল ব্লকচেইন বিজনেস কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সান্দ্রা রো কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন।

বিশ্বে ব্লকচেইন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রতি বছর আন্তর্জাতিকভাবে এ আয়োজনটি করা হয়, যার প্রতিপাদ্য হচ্ছেÑ‘অনুপ্রেরণামূলক ক্ষমতায়ন এবং উদ্ভাবন।’

বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীরা এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে। বিজয়ীদের জন্য সর্বমোট ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। চীন, হংকং, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, নেপাল, মঙ্গোলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে মোট ৫০টিরও বেশি দল অংশগ্রহণ করছে।

তিন দিনব্যাপী এ অলিম্পিয়াড চলবে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত। এ বছর অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি মোট চারটি সেমিনারের আয়োজন থাকছে। সেমিনারগুলো হবে সিবিডিসি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ই-গভর্নেন্স, আইডেন্টিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি এবং ফিনটেক বিষয়ে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১  জন  

সর্বশেষ..