পাঠকের চিঠি মত-বিশ্লেষণ

কঠোর লকডাউন পরিপালনে কঠোরতা চাই

প্রায় দেড় বছর ধরে ভয়ংকর কভিড মহামারির কারণে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। থমকে গেছে জীবনযাত্রা। অগণিত মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে পরিবার আপনজনকে করে দিচ্ছে নিঃস্ব অসহায়। চিকিৎসকরা এখন ক্লান্ত প্রতিদিন চোখের সামনে এত রোগীর মৃত্যু দেখে। প্রিয়জনদের আহাজারি-কান্না এখন নিত্যনৈমিত্তিক অবস্থা হয়ে গেছে। করোনায় মৃত্যু ও দৈনিক শনাক্তের রেকর্ড অতীতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাগামহীনভাবে। আর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। কভিড এখন ভয়ংকর থেকে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এই ভয়ংকর অবস্থাকে ঠেকানোর জন্য সরকার গত ১ জুলাই থেকে ৭ দিনের সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ৭ দিনের এই লকডাউনে কভিড পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না দেখে দেশব্যাপী লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই কঠোর লকডাউন কেন কঠোর থেকে ঢিলে হচ্ছে। কেন বিগত লকডাউনের মতোই নামেমাত্র লকডাউন পালিত হচ্ছে। লকডাউন কেন লকডাউনের মতো করে পালিত হচ্ছে না। যেখানে প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা এবং আক্রান্তের সংখ্যা বিগত দিনগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে পুরো মাসজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬২৯ জন। এপ্রিল মাসে সেই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। জুন মাসে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন এবং জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যদি এরূপ ঊর্ধবমুখী প্রবণতা থাকে তাহলে পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আক্রান্তের সংখ্যা জুন এপ্রিল মাসকেও ছাড়িয়ে যাবে। রোগীর সংখ্যা যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আর এই কঠিন চ্যালেঞ্জকে প্রতিরোধ করার জন্য সরকার যে এই কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে তার কোনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মানুষ মানছেন না লকডাউন। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। কঠোর লকডাউন পালনের যে সিদ্ধান্ত তা কেন কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে না। মানুষ কেন আদেশ না মেনে রাস্তায় বের হচ্ছে। প্রশাসন কেন তাদের আটকাতে পারছে না। কেন তারা কঠোর লকডাউন পালনে কঠোর হচ্ছেন না।

মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে। যেখানে আগে ভাইরাস সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪০-৫০ এভারেজে। আর এখন সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০০-এর বেশি। গত কয়েক দিন ধরে ২১২, ১৯৯, ২০২ এ রকমভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। যদি এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে মৃতের সংখ্যা ভারতের মতো হবে; যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক অবস্থার সৃষ্টি করবে। পরিস্থিতি কোনোমতে তখন আর সামাল দেয়া যাবে না।

চলমান এই লকডাউনের সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড খালি নেই। দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের সংকট। এরূপ পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউন কঠোর হওয়া এবং মেনে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লকডাউনের পরিস্থিতিতে অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। ঘরে তাদের খাবার নেই চাহিদামাফিক। মানুষ বেকার হয়ে বসে আছে। ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিগত কয়েকদিন আগে রাজধানীতে দিনমজুর বাবা তার সন্তানকে খাবার দিতে না পেরে সন্তানের আহাজারি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে মারা গেছে। এই যে আহাজারি সন্তান তার বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেল। নিঃস্ব হয়ে গেল একটি পরিবার। এরকম খাবারের অভাবে প্রতিদিন শত শত মানুষ আহাজারি করছে। কষ্ট পাচ্ছে।

এত কষ্ট এতকিছুর পরও করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য চলমান লকডাউন লকডাউনের মতোই যাতে পালন করা হয়। বিগত লকডাউনের মতো প্রহসনমূলক যাতে আর না হয় তার জন্য কঠোরকে কঠোরভাবেই এখন পালন করতে হবে। প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হতে হবে। সাধারণ মানুষকে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মানতে হবে লকডাউন। যাতে কভিড আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে না পারে এবং আর যাতে লকডাউনের প্রয়োজন না পড়ে। তাই অবশ্যই কঠোর লকডাউন কঠোরভাবেই যেন হয় আর যাতে ঢিলেঢালা না হয়।

সাদিয়া ইসলাম সম্পা শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..