সারা বাংলা

কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত যশোরের জনজীবন

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। সর্বশেষ গত সোমবার যশোরে ১১ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এদিন দিনের অর্ধেক সময়ে সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে ঠাণ্ডায় মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে বিকালের দিকে কিছু সময়ের জন্য আশার আলো জাগিয়ে সূর্য্য উঁকি দেয় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া নিয়ে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজকালের মধ্যে আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজকালের মধ্যে যশোরাঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকবে। সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলতে পারে। এছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে থাকবে। এতে করে শীতের তীব্রতা কমে আসবে। তবে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়লেও শ্রীমঙ্গল, পাবনা, দিনাজপুর, রাজশাহী অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে যশোরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের অধিকাংশ সময়ে ঘনকুয়াশার সঙ্গে বইছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। যে কারণে যশোর বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের নির্ধারিত সময়েও তারতম্য হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে অধিকাংশ বিমান দেরিতে যশোরে পৌঁছাচ্ছে এবং দেরিতে রওনা হচ্ছে।

বেসরকারি বিমান ইউএস বাংলার যশোর বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাব্বির হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে তীব্র ঘনকুয়াশা থাকছে। এতে মানুষের দৃষ্টিসীমা খুব কাছাকাছি চলে আসে। যে কারণে বিমান উঠানামা করতে সমস্যা হয়। প্রতিটি বিমান দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরি যাতায়াত করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আইএলএস অর্থাৎ ইনস্টুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম থাকলেও যশোরে এ ব্যবস্থা নেই। যে কারণে এখানে কুয়াশা হলেই বিমান উঠানামার সমস্যা হয়। এজন্য যশোর আইএলএস সিস্টেম খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।’

একই অবস্থা সড়ক পরিবহন ও ট্রেনের। রাতের বেলায় কুয়াশা বেশি হওয়ায় ফেরি বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস যশোরে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। অন্যদিকে ট্রেনের ওপর বাড়ছে যাত্রীদের চাপ। যশোর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রেনের শিডিউল শতভাগ মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রেনের চলাচলের গতি কমিয়ে দেয়ায় গন্তব্যে যাতায়াতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরি হচ্ছে। তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ কমতে থাকায় যশোরে মানুষের দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিন মজুরের অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরনের কথা বলা হলেও শহরে এমন কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। তবে কয়েকটি বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু কম্বল বিতরণ করতে দেখা গেছে।

মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে যশোরের বিভিন্ন মাঠে বোরোর বীজতলা নষ্ট হচ্ছে বলে কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপরিচালক (শস্য) দীপঙ্কর দাস বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন করেছি। কুয়াশা ও ঠাণ্ডার কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি নাÑতা খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা কৃষককে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ ক্ষেত থেকে ঠাণ্ডা পানি বের করে দিয়ে সেচ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ এলাকায় বীজতলায় ধানের চারা বড় হয়ে গেছে। ফলে এসব বীজতলা নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..