সারা বাংলা

কপোতাক্ষে ছয় লেন সেতু নির্মাণ শুরু হবে এ বছরেই

বেনাপোল-যশোর এশিয়ান হাইওয়ে

মহসিন মিলন, বেনাপোল: বেনাপোল-যশোর এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে কপোতাক্ষ নদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ঝিকরগাছা সেতুটি ছয় লেনে নির্মিত হতে যাচ্ছে। সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুই দশমিক ৩২ একর জমি অধিগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ও বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সহযোগিতায় ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সেতুটি নির্মিত হবে।
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঝিকরগাছা সেতু। বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগের সংযোগ হিসেবে কাজ করে এ সেতুটি। ঝিকরগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের ওপর ব্রিটিশ আমলে সেতুটি নির্মিত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাক বাহিনীর বোমায় সেতুর মাঝের অংশ উড়ে যায়। পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নতুন করে নির্মাণ করা হয়। এরপর কয়েক যুগ অতিবাহিত হওয়ায় সেতুটিতে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।
সড়ক বিভাগ এখানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি শুরু করলে সেতুটি পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে যুক্ত হয়। যেহেতু বেনাপোল-যশোর মহাসড়কটি পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সংযোগ সড়ক প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে, তাই ঝিকরগাছার এ সেতুর নির্মাণকাজ এ প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। আর গোটা কাজটি চলছে দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এবং সওজ বিভাগের সহযোগিতায়। প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ ঝিকরগাছা সেতু নির্মাণের জন্য ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। এছাড়া সেতুর দুই প্রান্তের জমি অধিগ্রহণের ব্যয়ভার বহন করছে সওজ এবং তদারকি করছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। আর ৭৮ কোটি টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানায়, সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯৪ ফুট ও প্রশস্ততা ১০২ ফুট। যানবাহন চলাচলের জন্য থাকবে ছয়টি লেন। এ সেতুর মাঝখানে থাকবে সোয়া তিন ফুট ডিভাইডার। সেতুর একপাশ তিনটি লেনে বিভক্ত থাকবে। এছাড়া দুই প্রান্তে ছোট যানবাহন ও রিকশা-ভ্যান চলাচলের জন্য থাকবে আলাদা লেন।
সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝিকরগাছা সেতু নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেতুর নকশাসহ বাজেট ও মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজও শেষের পথে। সেতুর জন্য ঝিকরগাছা কপোতাক্ষ নদের দুই পাড়ের মোট দুই দশমিক ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা তদারকি করছে সওজ ও জেলা প্রশাসন। অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের হাতে গত ২২ আগস্ট প্রায় ১৬ কোটি টাকার এলএ চেক বিতরণ করা হয়েছে, আরও ৭৮ কোটি টাকা বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।
যশোর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ঝিকরগাছা সেতু তাদের প্রকল্প নয়। এর খানিকটা দেখভাল তারা করছেন। তারা শুধু জমি অধিগ্রহণের অর্থের ছাড় দিয়েছেন। আর জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের ডেপুটি ম্যানেজার সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন জানান, এরই মধ্যে তারা সেতুর নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদনসহ মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেছেন। চলতি বছরেই তারা সেতু নির্মাণের মূল কাজে হাত দেবেন।
ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের ম্যানেজার এবং সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে যশোরাঞ্চলের দৃশ্যপট বদলে যাবে। ঝিকরগাছার ছয় লেনের সেতুটি এ অঞ্চলে প্রথম। এ-জাতীয় নকশায় খুলনা বিভাগে আর কোনো সেতু নির্মিত হয়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..