মত-বিশ্লেষণ

কবিগুরু রবে নীরবে প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে

কাজী সালমা সুলতানা: বাংলা সাহিত্যের ভুবনজয়ী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাঙালির জীবনে অফুরন্ত সৃজনশীলতার উৎস তিনি। জীবনকে প্রত্যক্ষ করেছেন বাঙালির সব আবেগকে ধারণ করে। তাই তো তিনি একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। আবার তিনি বাঙালির আর্থসামাজিক মুক্তির রাজনীতিতেও আবির্ভূত হয়েছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে রবীন্দ্রনাথ এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। যুগে যুগে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা, দর্শন ও জ্ঞানবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যে রূপান্তর ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ গভীর অনুশীলন ও ক্রমাগত নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সবকিছুই আত্মস্থ করেছিলেন। তার সাহিত্যজীবনের নানা পর্যায়ে এবং সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিষয়ের পরিবর্তন ও পালাবদল দেখা যায়। তার রচিত অসংখ্য গান, কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র ও দেশ-বিদেশের বক্তৃতায় তার প্রতিফলন দেখা যায়।
ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতার এক ধনাঢ্য সংস্কৃতিমান ব্রাহ্মণ পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম। শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল মিশনারি নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন করে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের চারদেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ শিক্ষায় আগ্রহ না থাকায় বাড়িতেই গৃহশিক্ষক রেখে তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করতেন রবীন্দ্রনাথ।
১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু সাহিত্যচর্চার আকর্ষণে সেই পড়াশোনা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি। ইংল্যান্ডে থাকাকালে শেক্সপিয়ার ও অন্যান্য ইংরেজ সাহিত্যিকদের রচনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটে। প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে কোনো ডিগ্রি না নিয়েই তিনি দেশে ফিরে আসেন।
১৮৮৩ সালে রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয় মৃণালিনী দেবী রায় চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশের খুলনার রেণীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে। রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনী দেবীর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস বাংলা ভাষায় তার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম। ১৮৮৩ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ মোট ১২টি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চোখের বালি, গোরা, ঘরে-বাইরে, চতুরঙ্গ, শেষের কবিতা, চার অধ্যায়, বউ ঠাকুরাণীর হাট প্রভৃতি।
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট কবিতাগুলোকে বেশ কয়েকটি পর্বে ভাগ করে তার সাহিত্যমূল্য আলোচিত হয়েছে। ১৮৮৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ‘ভানুসিংহ’ ছদ্মনামে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা ও ক্ষণিকা, নৈবেদ্য, খেয়া, গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য ও গীতালি, বলাকা, পলাতকা, পূরবী, মহুয়া এরপর পুনশ্চ, শেষ সপ্তক, পত্রপুট ও শ্যামলী কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। কবিতার মধ্যে কখনো মানবহৃদয়ের বিষন্ন তা, মানবপ্রেম বা প্রেম কিংবা রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিক চিন্তা, আবার কয়েকটি কাব্যগ্রন্থে নারীজীবনের সমসাময়িক সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। প্রাচীন সাহিত্যের দুরূহতার পরিবর্তে তিনি এক সহজ ও সরস কাব্যরচনার আঙ্গিক গ্রহণ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থটির জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। নোবেল ফাউন্ডেশন তার এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি ‘গভীরভাবে সংবেদনশীল, উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ’ রূপে।
বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে। তার লেখা ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও এক হাজার ৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত আছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে রবীন্দ্রনাথ বারবার নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। ১৯০২ সালে কবিপতœী মৃণালিনী দেবী মৃত্যুবরণ করেন। এর কয়েক মাসের মধ্যে মেয়ে রেণুকা মারা যান। ১৯০৫ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ দেহত্যাগ করেন এবং ১৯০৭ সালে মৃত্যু ঘটে কবির কনিষ্ঠ ছেলে শমীন্দ্রনাথের। এতগুলো মৃত্যুর শোক রবীন্দ্রনাথকে বিহ্বল করে তোলে। পারিবারিক বিপর্যয়ের সঙ্গে সে সময় কবি চরম অর্থসংকটে পড়েন। কিন্তু সব সংকট থেকে উত্তরণের এক মহাশক্তি তার মধ্যে ছিল। তাই তার কর্মযজ্ঞে ছেদ পড়েনি, থেমে থাকেনি সাহিত্যসাধনা।
রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যেও রয়েছে বৈশিষ্ট্য, ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা, চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তব চেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক। ভারতের ধ্রুপদী ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানবসংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের গান তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তার রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ ও ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ গান দুটি যথাক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত।
রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০ সালে বিলেত থেকে ফেরার পর বাবার আদেশে জমিদারি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় জমিদারি তদারকি উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানÑশাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহ ঘুরে বেড়ান। এই সূত্রেই শিলাইদহে গড়ে ওঠে একটি কবিতীর্থ। পদ্মায় নৌকায় বেড়ানোর সময় পদ্মানদী, বালুচর, কাশবন ও বাংলার সাধারণ মানুষ কবির মনকে আলোড়িত করে, যা তার গল্প ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
কবিগুরু কখনও রাজনীতিতে যুক্ত হননি, তবে সমসাময়িক ঘটনার সঙ্গে সবসময়ই যুক্ত রাখতেন নিজেকে। তিনি ছিলেন স্বদেশীকতার বরেণ্য পুরুষ। রবীন্দ্রনাথ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে জড়িয়ে পড়েন বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেন। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে তিনি তার মনোভাব প্রকাশ করে গান রচনা করেন
‘বাংলার মাটি বাংলার জল
বাংলার বায়ু বাংলার ফল,
পুণ্য হোক পুণ্য হোক
পুণ্য হোক হে ভগবান।’
একই সময় তিনি স্বদেশ পর্বেও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গান রচনা করেন।
১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধি প্রদান করে। কিন্তু ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল রাওলাট অ্যাক্টের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের জালিয়ান ওয়ালাবাগে এক মহাসমাবেশে ব্রিটিশ পুলিশের আকস্মিক গুলিতে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়। ইংরেজদের এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে তিনি নাইট উপাধি ত্যাগ করেন। তিনি অসহায়-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন, হয়ে উঠলেন বিশ্বমানবতার সঙ্গী।
দেশে দেশে যুদ্ধ হয়েছে, চলেছে লুট, হত্যা, ধর্মীয় আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মান্ধতা; কিন্তু কবি কখনও মানবজাতির ওপর থেকে বিশ্বাস হারাননি। তিনি জানতেন মানবজাতির ইতিহাস কখনও থেমে থাকবে না। তাকে যেমন অতীত থেকে বর্তমানে আসতে হয়েছে, তেমনি যেতে হবে ভবিষ্যৎ অভিমুখে। সভ্যতার এই এগিয়ে চলার পথপ্রেম, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির পথ থেমে যাওয়ারও নয়। সভ্যতা টিকে থাকে তার আপন শক্তিতে। তার জন্য যুগে যুগে আবির্ভূত হন শিল্পী, বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক, দার্শনিক; লেনিন-গান্ধীরাই বিশ্বমানব সংকটে পথ দেখান। তাদেরই একজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও।
বাঙালির মিত্র হতে পেরেছিলেন কবি তার জীবন-সম্পর্কিত চিন্তা ও কাজে। সমাজের প্রচলিত প্রথা ভেঙে নতুন প্রথা গড়ার কারিগর ছিলেন তিনি। সামাজিক কুপ্রথা, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতাকে তিনি আক্রমণ করেছেন শানিত কলমে। ঘৃণা করেছেন সন্ত্রাসবাদকে। তিনি পল্লি সংগঠন ও গঠনমূলক কাজে নিয়োজিত করেন নিজেকে। লোকশিক্ষা, সামাজিক কর্তৃত্ব, সমবায়সহ বিভিন্ন জনসেবার দিকগুলোতে তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন। প্রকৃতপক্ষে তার পল্লীসংগঠনমূলক কাজের সূত্রপাত ঘটে শিলাইদহে বসবাসকালেই। দরিদ্র প্রজাদের দুর্দশা লাঘবের জন্য তিনি শিক্ষা, চিকিৎসা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, ঋণের দায় থেকে কৃষকদের মুক্তিদান প্রভৃতি বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের মনোনিবেশ ছিল।
বিশ্বকবি ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীনিকেতন। এই সংস্থা গ্রামীণ সমাজের সার্বিক উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করে। ১৯২৩ সালে তিনি শান্তিনিকেতনেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিদ্যালয়। দীর্ঘ জীবনে বহুবার বিদেশভ্রমণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। প্রচার করেছিলেন সৌভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বমানবতার বাণী। রবীন্দ্রসাহিত্য সর্বকালের সীমা জয় করেছিল। তিনি ছিলেন সকল বাঙালির। বাঙালির সকল প্রয়াস মননে সকল নিমিত্তে সকল আবদানে তারই উপস্থিতি।
বাঙালির এই মিত্রকে আমাদের দেশে খণ্ডিত করে দেখার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছিল পাকিস্তান শাসনামলে। খণ্ডিত নয় বরং বর্জন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল সে সময়ে। একইভাবে বর্তমানেও সাম্প্রদায়িকতায় আচ্ছন্ন মানুষেরা। সাম্প্রদায়িক কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে রবীন্দ্রবর্জনের ধুয়া তুলেছিল তারা। দ্বিজাতি তত্ত্বের লেজুড়ধারীরা সাম্প্রদায়িকতার ফসল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পের প্রবেশ ঘটিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার তৎপরতায় লিপ্ত ছিল।
রবীন্দ্র সাহিত্য বর্জনের এ অশুভ তৎপরতা টিকে থাকেনি চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির প্রবাহের কাছে। ১৯৬৭ সালের ২৮ জুন দৈনিক আজাদে প্রকাশিত ১৯ বুদ্ধিজীবীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বরীন্দ্রনাথের বাংলা সাহিত্য বাংলা ভাষাকে যে ঐশ্বর্য দান করেছে, তার সংগীত আমাদের অনুভূতিকে যে গভীরতা ও তীক্ষèতা দান করেছে, তা রবীন্দ্রনাথকে বাংলাভাষী পাকিস্তানিদের কাছে সাংস্কৃতিক সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। তাই রবীন্দ্র বর্জনের মতো হাস্যকর অশুভ তৎপরতা কোনো ঠিকানা পায়নি। কারণ বাঙালি সংস্কৃতির এক বিশাল ভাণ্ডার গড়ে রবীন্দ্রনাথ বাঙালিকে করেছেন ঐশ্বর্যশালী। কখনোই কোনো অপতৎপরতা যেমন বাঙালিকে পেছনে নিতে পারেনি, তেমনি পারবে না রবীন্দ্রনাথকে বাঙালির হৃদয় থেকে সরিয়ে নিতে। যুগ যুগ ধরে রবীন্দ্রনাথ অমর হয়ে থাকবেন বাঙালি জাতির মাঝে সাহিত্যকর্ম, মানবিকতার গুণাবলি ও সভ্যতার আলোকবর্তিকা হয়ে।

গণমাধ্যমকর্মী

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..