সুশিক্ষা

কভিডকালে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা

গতকালের পর

ফুড অ্যালার্জি: অনেকের মাংস, বেগুন বা বাইরের খাবারে চুলকানি শুরু হয়, বমি-বমি ভাব হয়। এগুলো মূলত অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। তাদের শরীর ওইসব খাবারের জন্য উপযোগী নয়। ওই খাবারগুলো যদিও অন্যদের জন্য স্বাভাবিক, তবে তাদের জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। তাই তারা যখন ওই খাবারগুলো খায়, তখন সারা শরীর চুলকাতে থাকে এবং লাল হয়ে যায়।

ওষুধে অ্যালার্জি: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করার পর শরীর চুলকাতে চুলকাতে লাল হয়ে যায়। অর্থাৎ ওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিও তার হাইপারসেনসিটিভিটি রয়েছে এবং ওই অ্যান্টিবায়োটিক তার জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করছে। যদি কারও এমন হয়ে থাকে তাহলে ওই অ্যান্টিবায়োটিক পরিবর্তন করে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। কোনো মেডিসিন ব্যবহারের ফলে যদি কোনো হাইপেরসেনসিটিভিটি রি-অ্যাকশন শুরু হয়, তাহলে সেটি ড্রাগ অ্যালার্জি।

অ্যানাফাইলেকটিক রি-অ্যাকশন: অ্যানাফাইলেকটিক রি-অ্যাকশন হচ্ছে এক ধরনের ইমার্জেন্সি অ্যালার্জিক কন্ডিশন। মনে করুন, কারও শরীরে একটি কীটপতঙ্গের সংস্পর্শ লেগেছে, অথবা কোনো ছোট মশা কিংবা অন্যান্য কীটপতঙ্গ কামড় দিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, লাল-লাল চাকা হয়ে গেছে। শরীর প্রচণ্ড চুলকাচ্ছে। সারা শরীর ব্যথা করছে। এই অবস্থাগুলোকে অ্যানাফাইলেকটিক রি-অ্যাকশন বলে। যাদের শরীর হাইপারসেনসিটিভ তাদের ক্ষেত্রে মশা কিংবা ছারপোকার কামড়ে অ্যানাফাইলেকটিক রি-অ্যাকশন দেখা দিতে পারে।

অ্যাটপিক একজিমা: এটি এক ধরনের অ্যালার্জিক স্কিন কন্ডিশন, যা অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশনের কারণে হয়ে থাকে।

চিকিৎসা: প্রথমে জেনে রাখা ভালো, অ্যালার্জির স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। এর সম্পর্ক ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে। তাই যাদের যেসব বস্তু বা খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তা পরিহার করে চলাই ভালো। আর অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরার কারণে যাদের অ্যালার্জিক উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তারা ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। এই করোনাকালে এ বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

ওষুধ: অ্যালার্জিতে যেহেতু হিস্টামিন প্রচুর রিলিজ হয়, তাই অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে হিস্টামিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেজন্য অ্যালার্জিক কন্ডিশনে অ্যান্টিহিস্টামিন হচ্ছে অ্যালার্জির মূল চিকিৎসা। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো চিকিৎসা নেয়া কিংবা অল্টারনেটিভ চিকিৎসা নেয়া বিপজ্জনক হতে পারে। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় নিকটস্থ চিকিৎসক কিংবা সরাসরি হাসপাতালে যোগাযোগ করাই ভালো। (শেষ)

ডা. ইসমাইল আজহারি

মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..