মত-বিশ্লেষণ

কভিডকালে শিশুদের প্রতি আলাদা মনোযোগ

করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কভিড-১৯) বিশ্বজুড়ে পারিবারিক জীবন এলোমেলো করে দিয়েছে। সময়ে শিশুসন্তানের প্রতি আলাদা মনোযোগ দিতে হয়। তাদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হয়, তাদের বোঝাতে হয় প্রজ্ঞার সঙ্গে। কভিডকালে শিশুকে কীভাবে গুণগত সময় দেবেন, তা ঠিক করুন।

আপনার শিশুর সঙ্গে শেখা: তাদের পরিবেশকে আনন্দদায়ক করে তুলুন! শিশুরা উদ্দীপনামূলক অনেক কিছুর প্রতি সাড়া দেয়। আপনার শিশুকে তার পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বিশ্বকে বুঝতে দিন!

শিশুরা খেলার মাধ্যমে শেখে: আপনি নিজেও শিশুর স্তরে নেমে যান এবং সে যাতে আপনাকে দেখতে ও আপনার কথা শুনতে পারে, সেটা নিশ্চিত করুন।

পিক-এ-বু খেলুন, গান বা ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে শোনান, কিংবা ব্লক বা কাপ সাজিয়ে খেলুন।

একসঙ্গে গান করুন: হাঁড়ি দিয়ে, ঝুনঝুনি দিয়ে বা কৌটার ভেতর কিছু একটা ভরে শব্দ করে তালে তালে গান করুন।

আপনার শিশুর সঙ্গে বইগুলো ভাগাভাগি করুন, এমনকি তার বয়স খুব কম হলেও! ছবিতে কী আছে, সেটা বর্ণনা করে তাকে বোঝান। আপনার শিশুকে তার সব ইন্দ্রিয় দিয়ে বইগুলোকে বুঝতে দিন।

শিশুরা যখন কাঁদে: অবিলম্বে আপনার শিশুর প্রতি সাড়া দিন। আপনার শিশুকে কী কারণে কাঁদছে তা বোঝার চেষ্টা করুন। কাপড় দিয়ে

মুড়িয়ে দেওয়া হলে বা হালকা দোলানো হলে আপনার শিশু শান্ত হতে পারে। ঘুমপাড়ানি গান বা মৃদু শব্দের সংগীত বাজানো হলে তা শিশুর জন্য সুখকর হতে পারে। শান্ত থাকুন এবং একটু বিরতি নিন! আপনি আপনার শিশুকে নিরাপদ স্থানে চিত করে শুইয়ে দিয়ে অন্য কাজ করতে পারেন। তবে প্রতি পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পরপর শিশুটি কী করছে তা খেয়াল রাখুন।

আপনি যদি মনে করেন আপনার শিশু আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ, তাহলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে ফোন করুন বা তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যান।

আপনার শিশুরা শিখছে, তাই তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করুন, তবে বাবা-মা হিসেবে নিজের সঙ্গেও ভালো আচরণ করুন!

কেবল আজ কিছু একটা ঠিকঠাক হয়নি বা আপনি মেজাজ হারিয়েছেনÑএগুলো বাবা-মা হিসেবে আপনি কেমন তা নির্ধারণ করে না। আপনি আজ ভালোভাবে যে কাজগুলো করেছেন, সেগুলোর কথা মনে করুন, এমনকি সেগুলোকে খুব ছোট মনে হলেও।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..