Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 5:22 pm

কভিডের কারণে উত্তরপত্র উধাও

প্রকাশ: April 17, 2021 সময়- 01:07 am

প্রতিনিধি, কুবি: দুই মাস পার হলেও গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের চূড়ান্ত পরীক্ষার উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্ত শেষ করতে পারেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন। ২০২০ সালের ১ মার্চ শেষ হয়েছিল এ কোর্সের পরীক্ষা।

কিন্তু ঘটনাটি সামনে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ঘটনাটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সে কমিটি এখনও তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি।

এদিকে এভাবে খাতা হারিয়ে যাওয়ায় ফল আটকে থাকায় অনিশ্চয়তায় সময় কাটছে ওই সেশনের শিক্ষার্থীদের। উত্তরপত্র না পাওয়া এবং এ ঘটনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় তারা হতাশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, উত্তরপত্র কীভাবে হারিয়ে যায়, এটা আমি ভেবে পাই না। দুশ্চিন্তায় আছি। এমনিতে কভিডের কারণে পিছিয়ে গেছি। এখন আমরা আরেক সমস্যায় পড়লাম।

তবে এখন তদন্ত কাজ আটকে যাওয়ার পেছনে লকডাউনকে দায়ী করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তদন্ত কার্যক্রম আটকে যাওয়ার ব্যাপারে কমিটির আহ্বায়ক ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে আমি মিটিং করেছি, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, বেশ কয়েক জায়গায় খোঁজ-খবরও নিয়েছি। এখন আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছে, ওই বিভাগে খোঁজা দরকার। এরপর আমি পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারব। কিন্তু এর মধ্যে তো লকডাউন শুরু হয়ে গেল!’

কবে নাগাদ এই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারেÑএ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই লকডাউনে কোনো শিক্ষক আসতে না চাইলে তো তাকে আমরা জোর করে ক্যাম্পাসে আনতে পারি না। তবে লকডাউন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা দু-একটা মিটিংয়ের মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারব।’

এ সময় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে চিঠি আসতে দেরি হওয়ায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।

তবে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের এই অভিযোগের ব্যাপারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘খাতা হারানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত যতক্ষণ পর্যন্ত সিন্ডিকেটে অনুমোদন না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত চিঠি দেয়া যায় না। আর একাডেমিক কাউন্সিল হয়েছে সিন্ডিকেটের ২০ দিন আগে। তাই এখানে ১৫ থেকে ২০ দিন দেরি হয়ে গেছে।’

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী তদন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ‘এখন তো লকডাউন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তবে আমরা এরই মধ্যে দুটো মিটিং করেছি। আমাদের প্রাথমিক কাজ শেষ। লকডাউন শেষে বাকিটা দেখা যাবে।’

এদিকে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে উল্লেখ করে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গণিত বিভাগের প্রধান খলিফা মোহাম্মদ হেলাল।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ‘এমটিএইচ-২২১: রিয়েল অ্যানালিসিস-২’ নামক কোর্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার উত্তরপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। কোর্সের শিক্ষক ছিলেন প্রভাষক মো. আতিকুর রহমান।