বিশ্ব সংবাদ

কভিডের ডেল্টা ধরন ও দুর্যোগের প্রভাব বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যস্ত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী মহামারি কভিডের নতুন ‘ডেল্টা’ ধরন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে চীন, জার্মানি, ফিলিপাইন ও ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও ভূমিধসে বৈশ্বিক সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও রাশিয়ায় দাবানল হওয়ায় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দর ও ইউরোপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। খবর: রয়টার্স।

বৈশ্বিক কোম্পানি, অর্থনীতিবিদ ও শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও ভোগ্যপণ্যের ভঙ্গুর প্রবাহের কারণে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন হুমকির মুখে পড়েছে।

কভিড-১৯ নতুন ডেল্টা ধরনটি এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং অনেক দেশকে তাদের নাবিকদের স্থল প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে বলেছে। গত বছর কঠোর লকডাউনে সমুদ্রে আটকে থাকা প্রায় এক লাখ নাবিক ও ক্রুদের কাজে লাগানো যায়নি। অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ক্রু ও নাবিক গত এক বছর সরবরাহ কাজে যোগ দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিংয়ের সাধারণ সম্পাদক গাই প্লাটেন বলেন, আমরা আর দ্বিতীয় ক্রু পরিবর্তনের সংকটের মুখোমুখি নই। তিনি বলেন, আমরা একা হয়ে গেছি। এটিকে ‘বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের জন্য এটি বিপজ্জনক মুহূর্ত’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

বিশ্ববাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করা হয় শিপ (জাহাজ) পরিবহনের মাধ্যমে। শিপ ট্রান্সপোর্টের ক্রু (নাবিক) সংকটে জ্বালানি তেল ও আকরিক লোহা থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য এবং ইলেকট্রনিকস পর্যন্ত সব ধরনের সরবরাহে ব্যাহত হয়েছে।

জার্মান কন্টেইনার লাইন হ্যাপাগ লয়েড এ পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং’ বলে বর্ণনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ভেসেল ক্ষমতা খুব শক্ত, খালি কন্টেইটারের দুষ্প্রাপ্যতা এবং নির্দিষ্ট বন্দর ও টার্মিনালে অপারেশন অবস্থার (পণ্য খালাস) উন্নতি হচ্ছে না। আর এটি চতুর্থ প্রান্তিক তথা বছরের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে এরই মধ্যে অর্থনৈতিক জায়ান্ট দেশ চীন ও জার্মানিতে ভয়াবহ বন্যায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনগুলোকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যেখানে কভিড-১৯-এর প্রথম ঢেউয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হার মেনেছিল।  

রাজ্য সরকার বলছে, চীনের বন্যায় অভ্যন্তরীণ খনি অঞ্চল ইনার মঙ্গোলিয়া ও শানসিনের মতো খনি অঞ্চলগুলো থেকে কয়লা পরিবহন হ্রাস করেছে, যেখানে পাওয়ার প্লান্টগুলোর গ্রীষ্মকালীন চাহিদা চুড়ায় উঠেছিল।

বন্যায় জার্মানিতে সবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। সাপ্লাই চেইন প্ল্যাটফর্ম ফোরকিটর্সের মতে, ১১ জুলাইয়ের আগের সপ্তাহ থেকে গত সপ্তাহে জার্মানির সরবরাহ চেইন ১৫ শতাংশ বিপর্যস্ত হয়েছে।

তাইওয়ানের সেলস ও মার্কেটিং কোম্পানি মিডওয়েস্টের ভিপি নিক ক্লিন বলেছেন, সংকট সৃষ্টির কারণে এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোয় পণ্য কমেছে।

এদিকে কভিডের নতুন ধরনের কারণে জাপানের টয়োটা গ্রুপ থাইল্যান্ড ও জাপানে চলতি সপ্তাহে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

স্টেলানটিস সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে প্লান্টে উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছে। কারণ করোনার কারণে তাদের অনেক কর্মীকে আইসোলেশনে রাখতে হয়েছে।

মূলত এশিয়ার সরবরাহকারী দেশ থেকে এ বছর চিপ সরবারাহে ব্যাহত হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল চিপ সংকট এ বছরের শেষের দিকে কেটে যাবে। কিন্তু বন্যা ও কভিডের নতুন ধরনের জন্য ২০২২ সাল পর্যন্ত চিপ সংকট থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অটো মেকার, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড, ক্রিসলার ও রিভিয়ান কোম্পানিকে গাড়ির চিপসহ কাচামাল সরবরাহ দেয়, তারা জানায়, ট্রান্সপোর্ট খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামালের দাম অনেকগুণ বেড়ে গেছে। কোম্পানির একজন নির্বাহী বলেন, কারখানার ইস্পাত ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ১০ শতাংশ উৎপাদন খরচ যোগ করতে  হচ্ছে।

ইউরোপের সবচেয়ে বড় গৃহসরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানি ইলেট্রলাক্স চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে, উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। আর ডোমিনো পিজ্জা জানিয়েছে, ডেলিভারি যন্ত্রপাতির কারণে সরবরাহে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে বাকলিং সাপ্লাই চেইনের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব মোটর অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ দিয়ে থাতে বাকলিং। এটি বিশ্বব্যাপী মন্দার পাশাপশি কাঁচামলের দাম বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..