Print Date & Time : 30 June 2022 Thursday 12:55 am

কভিডের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিক্রয় চাপ

মো. আসাদুজ্জামান নূর: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় লেনদেনও কমেছে। প্রকৌশল, আইটি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ভালো দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে সমানসংখ্যকের দর বৃদ্ধি ও হ্রাসের ফলে বেশিরভাগ খাতে দরপতন দেখা গেছে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে নতুন উদ্যোমে সক্রিয় হয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ফিরতে শুরু করে। এর প্রভাবে বছরের প্রথম তিন সপ্তাহে উত্থান হয় পুঁজিবাজারে। ফলে এ সময়ের মধ্যে লাভে থাকা বিনিয়োগকারীরা মুনাফা করেন। ফলে চলতি সপ্তাহে টানা দু’দিন পতন দেখা গেছে পুঁজিবাজারে।

তবে ওই পতন স্বাভাবিক দর সংশোধন বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এখন পতনের কারণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে কভিডের সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে চলে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে বাজারে ‘ক্রয় চাপ’ কমে বেড়েছে ‘বিক্রয় চাপ’। এ কারণে গতকাল বাজারে নেতিবাচক ধারায় লেনদেন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

গতকাল ডিএসইতে এক হাজার ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে যা এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা কম। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ১১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার।

আগের দিনের মতো গতকালও লেনদেন সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বস্ত্র খাত। এ খাতের অবদান দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপর লেনদেনে অবদান রাখে যথাক্রমে বিবিধ ১৪ দশমিক ২৪, ওষুধ ও রসায়ন ১০ দশমিক ২৮, প্রকৌশল ৯ দশমিক ৮৩, খাদ্য ছয় দশমিক ৬৭, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছয় দশমিক ৬৪ ও সাধারণ বিমা খাত ছয় দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৮১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১৫৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৬৬টি কোম্পানির। এদিন বস্ত্র খাতে ৫৪, প্রকৌশল খাতে ৫২, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫৬, বিমা খাতে ৫০, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৮১, আইটি খাতে ৯০ ও সিরামিক খাতে ৬০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। অন্যান্য খাতে দরপতন দেখা গেছে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স শূন্য দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ৩২ পয়েন্টে অবস্থান করে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএস৩০ সূচক এক পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক শূন্য দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমেছে।

সূচকের পতনে ভূমিকা রেখেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বার্জার পেইন্টস, লিনডে বিডি, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইউনাইটেড পাওয়ার, সোনালী পেপার, বসুন্ধরা পেপার মিলস, ব্র্যাক ব্যাংক, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স।