সম্পাদকীয়

কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিন

নভেল করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কভিডের তাণ্ডবে সারাবিশ্ব বিপর্যস্ত। আমাদের দেশও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ায়  এর তেমন কোনো প্রতিষেধক নেই। এ অবস্থায় দেশে দেশে মাস্ক পরা একপ্রকার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।  আমাদের প্রধানমন্ত্রীও মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। প্রায়ই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় কভিড পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, কভিড সংক্রমণ মোকাবিলায় মাস্ক ছাড়া এলে কাউকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোয় সেবা দেওয়া হবে না। এ জন্য ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। বেসরকারি অফিসগুলোয় এই নীতি মানা হচ্ছে কি না, তা পরিদর্শন করা হবে। অফিসের সামনে কাউকে মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হবে নাÑলেখাও থাকবে।

এর আগে সরকার বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে শিথিলতা দেখা যায়। আসন্ন শীত মৌসুমে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

ইউরোপ ও আমেরিকায় কভিডের দ্বিতীয়বার সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায়  জার্মানিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, গোটা ফ্রান্স লকডাউন করা হয়েছে।

আমাদের দেশে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় কোনো প্রস্তুতি নেইÑনা জনগণের, না সরকারের। শুক্রবার শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংক্রমণ, মৃত্যু ও সর্বোচ্চ সতর্কতা সত্ত্বেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ ঘোষণা জারি করা হলেও তা কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নেই।

কভিড আমাদের জীবনের স্বাভাবিকতা কেড়ে নিয়েছে। তাই নিজেদের স্বার্থে হলেও প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মসজিদের ইমামরা মাইকে জনগণকে অবহিত করবেন। কিন্তু জনসাধারণকে তা যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। অফিস-আদালত, দোকানপাট, শপিংমল, গণপরিবহন, রেল, লঞ্চ এবং সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

করোনাভাইরাস ও করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কভিড, এর লক্ষণ, কীভাবে ছড়ায়, সতর্কতা, চিকিৎসকের পরামর্শ, ভাইরাস কোথায় কতক্ষণ থাকতে পারে, সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কী করা উচিত, বাসগৃহ-কর্মক্ষেত্র কীভাবে কভিড থেকে নিরাপদ থাকা যায়, এগুলো কমবেশি সবাই জানি। তাই এগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আমাদের জন্য সহজ।  

হাত ধোয়ার ধাপগুলো সবাই জানে। নিরাপদ ও প্রবহমান পানিতে হাত ভেজানো, ভেজা হাতে পর্যাপ্ত সাবান লাগানো, অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাতের সব অংশ ভালোভাবে ঘষে নেওয়া, প্রবহমান পানিতে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলা, পরিষ্কার কাপড় বা এককভাবে ব্যবহার্য তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে হাত শুকিয়ে নেওয়া। এখন আমাদের উচিত, স্বাস্থ্যবিধিকে প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত করা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার প্রভৃতি সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন থাকা। কভিডের সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখা এবং সতর্ক থাকার মাধ্যমে নিজে সুস্থ থাকা এবং অন্যকে সুস্থ রাখা। কভিডের  দ্বিতীয় ঢেউ  মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..