দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কভিডে চট্টগ্রামেই ৪৭ পোশাক কারখানায় ২২ হাজার কর্মী চাকরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: দেশে কভিড-১৯-এর সংক্রমণের প্রভাবে চট্টগ্রামেই ৪৭ পোশাক কারখানায় প্রায় ২২ হাজার পোশাককর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছেন, যারা বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। আর যারা চাকরি করছেন তাদের বেতন দেয়া হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ হারে। গতকাল স্থানীয় এক হোটেলে বিলস লেবার রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার (বিলস) নামের একটি সংস্থা মহামারির সময়ে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের দুর্দশার তথ্যচিত্র নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংস্থার পক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তপন দত্ত আরও বলেন, করোনা-সংক্রমণ নতুন বছরেও চলমান। দেশে স্বল্প দিনের লকডাউনের সুযোগ নিয়ে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পোশাক খাতে শ্রমিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে। মহামারির প্রথম দিকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির আদেশ কমলেও পরিস্থিতির উন্নতিতে তা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ কভিড-১৯ সংক্রমণের অজুহাতে গার্মেন্ট মালিকরা দুই ও চার শতাংশ সুদে দুই দফায় ১০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন। তবুও আইনসংগত পাওনা না দিয়ে তারা শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন। আবার এখন তারা বায়না ধরেছেন শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি পাঁচ শতাংশ স্থগিত রাখার জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আইএলওএর হিসাবে কভিড-১৯ সংক্রমণে বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় সাত লাখ শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন, যাদের জীবন চলে স্বল্প মজুরির চাকরির মাধ্যমে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের শ্রমিকরা আংশিক এবং হোটেল ও পরিবহন শ্রমিক, দোকান কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহ শ্রমিক, কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেশন শ্রমিকসহ বহু শ্রমিক পুরোপুরি আয়শূন্য ছিলেন। কর্মহীন লাখ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। কর্মহীন হওয়ার ফলে দারিদ্র্য বেড়েছে ১৯ শতাংশ এবং দরিদ্র জনসংখ্যা বেড়েছে ২৪ শতাংশ।

এদিকে মহামারির মধ্যে পাটকল ও চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব খাতের অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। কিন্তু করোনা ভয় দূর করে কৃষি শ্রমিকরা ফসল ফলিয়েছেন। অথচ কৃষিপণ্য নিয়ে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের নায্য দাম পান না। আবার সাধারণ ভোক্তারাও সস্তা মূল্যে কৃষিপণ্য পাচ্ছেন না। কখনও পেঁয়াজ, কখনও চাল, আবার ভোজ্যতেল ও মসলা নিয়ে সিন্ডিকেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা মুনাফা করছেন।

১৩টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত বিলস লেবার রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার বিভিন্ন শ্রমিকদের আইনি ও বিভিন্ন সহায়তা দেয়। এ সেন্টারের চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, লকডাউনের শুরুতে চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও এখনও তা চালু হয়নি। দুটি আদালতের একটিতেও এখনও বিচারিক কাজ চলছে না, যার কারণে শ্রমিকরা আইনি প্রতিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংস্থাটির সদস্য সচিব ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শফর আলী বলেন, শ্রম আদালতের বিচারকরা জেলা জজ পদমর্যাদার হন। শ্রম আদালতে কেউ ন্যায্য বিচার না পেলে আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু কারখানা মালিকরা আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন, যার কারণে কোনো শ্রমিক মামলা করে তার রায় আর দেখে যেতে পারেন না। শ্রম আদালতের আপিল ট্রাইব্যুনালে পাওয়া রায় নিয়ে কেউ যেন উচ্চ আদালতে যেতে না পারেন, সেজন্য আইন করা উচিত।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..