আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কভিডে পাঁচ মৃত্যু ৩৫০ আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত এক দিনে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৩৫০ জন। সবশেষ গত বছরের ৬ মে এর চেয়ে কম মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; সেদিন তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছিল।

গতকাল সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া পাঁচজনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আট হাজার ৩৪২ জনের মৃত্যু হলো। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার ২৪ জন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৪২৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে চার লাখ ৯০ হাজার ৮৯২ জন হয়েছে।

সপ্তাহভিত্তিক যে তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে গত সাত দিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আগের সপ্তাহের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে, কিন্তু রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; তা সোয়া পাঁচ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ জানুয়ারি। এর মধ্যে গত বছরের ২ জুলাই চার হাজার ১৯ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ২৩ জানুয়ারি তা আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বিশ্বে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১ কোটি সাত লাখ পেরিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫৩ হাজার। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৯তম অবস্থানে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৭টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৯টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৬৮টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২১৪টি ল্যাবে ১১ হাজার ১৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৭টি নমুনা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৮টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে আট লাখ ৮৯ হাজার ২১৯টি।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার এক দশমিক ১৪ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ আর নারী দুজন। তাদের চারজন হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, একজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া আট হাজার ৩৪২ জনের মধ্যে ছয় হাজার ৩১৪ জনই পুরুষ এবং দুই হাজার ২৮ জন নারী। তাদের মধ্যে চার হাজার ৬৩২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া দুই হাজার ৭৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯৪৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৪১৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৬৮ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৬৪ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৭ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে চার হাজার ৬৬৩ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৫২৬ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৭৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৫৮ জন খুলনা বিভাগের, ২৫২ জন বরিশাল বিভাগের, ৩১০ জন সিলেট বিভাগের, ৩৬২ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৯৬ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..