দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কভিডে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন ১৬ হাজার প্রবাসী বিনিয়োগকারী

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: অন্যান্য খাতের মতো করোনাভাইরাসের বৈরী প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে আয় কমেছে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির। এ ভাইরাসের কারণে আয় কমে গেছে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী উভয়ের। ভাইরাসের কবলে পড়ে বাজার পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় পুঁজিবাজার ছেড়ে গেছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এ তালিকায় প্রবাসী বিনিয়োগকারী রয়েছেন ১৬ হাজার।

তথ্যমতে, করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগে প্রবাসী বিনিয়োগকারী ছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ১৫০ জন। বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক লাখ ২৯ হাজার ৯৫৭ জনে। অর্থাৎ এ সময়ে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন ১৫ হাজার ৯৯৩ প্রবাসী বিনিয়োগকারী। মূলত করোনা-আতঙ্কের জন্যই তারা পুঁজিবাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে প্রবাসীদের আগ্রহ বাড়াতে তেমন কোনো উদ্যোগ না থাকলেও ২০১৮ সালে প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার অতিক্রম করে, কিন্তু এরপর বাজার পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। ফলে ২০১৯ সালে এসে বাজার ছাড়েন প্রায় ছয় হাজার প্রবাসী। আর চলতি বছরে ছয় মাসেই বাজার ছেড়েছেন প্রায় ১৬ হাজার প্রবাসী। অর্থাৎ দেড় বছরে বাজার ছেড়ে গেছেন প্রায় ২২ হাজার প্রবাসী।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কভিড দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এ ভয়েই তারা পুঁজিবাজার ছেড়েছেন। অন্যদিকে সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় প্রবাসীদের আয়ও অনেক কমে গেছে। অনেকেই দেশেও ফিরে এসেছেন। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তারা আর পুঁজিবাজারে থাকতে চাননি।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা অনেক ভেবেচিন্তে বাজারে বিনিয়োগ করেন। পুঁজিবাজারের বৈরী পরিস্থিতি হলে তারা আরও বেশি হিসাবি হন। তবে যে পরিস্থিতিই হোক না কেন ভালো মানের কোম্পানি পুঁজিবাজারে এলে সব ধরনের বিনিয়োগকারী আবারও বাজারে ফিরে আসবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ব্যাংক খাতে আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণেই ব্যাংক ছেড়ে পুঁজিবাজারের আসেন প্রবাসীরা। কারণ এখান থেকে তাদের মুনাফা অর্জন করার সম্ভাবনা বেশি। তাই ব্যাংক ছেড়ে পুঁজিবাজারে আসা প্রবাসীদের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ পুঁজিবাজারে দেখেশুনে ভালো মানের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারলে  বছর শেষে ব্যাংকের চেয়ে পুঁজিবাজার থেকেই বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।

তাদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকের সুদের হার অনেক কম। এ কারণে দেশি বা প্রবাসী কেউই ব্যাংকে টাকা রাখতে আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। করোনাকাল কেটে গেলে তারা আবারও পুঁজিবাজারে ফিরে আসবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মূলত ২০১০ সালের পর থেকে পুঁজিবাজারে প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমতে থাকে। কারণ তখনকার ধসে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মতো তারাও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৬-১৭ সালে আবারও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো না থাকার কারণে আবারও বাজারবিমুখ হয়ে যান তারা। আর ২০২০ সালে করোনার কারণে তাদের ইনকাম হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের অবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে অনেকেই পুঁজিবাজার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। কারণ এখন তারা আর্থিকভাবে খুব দুর্বল।

এদিকে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের মতো চলতি বছরে পুঁজিবাজার ছেড়ে গেছেন বিপুলসংখ্যক দেশীয় বিনিয়োগকারী। সময়মতো বিও ফি পরিশোধ না করার করণে এবার বাতিল হয়ে গেছে এক লাখ ৯৫ হাজার বিও। এর আগের বছর এই ধরনের বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়েছিল এক লাখ ৯৩ হাজার। অন্যদিকে গত ছয় বছরে মোট বাতিল হয়ে গেছে আট লাখের বেশি বিও। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ চার হাজার। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৯৫ হাজারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..