পত্রিকা

কভিড ঝুঁকিতে ভোমরা বন্দরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল

সৈয়দ মহিউদ্দীন হাশেমী, সাতক্ষীরা: কভিড-১৯ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। কভিডের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও ভারত থেকে আসা শত ট্রাকচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধির কোনো ব্যবস্থাই নেই বন্দরে। এ কারণে অবাধে চলাচল করছেন তারা। ফলে কভিড সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্টসহ স্থানীয়রা। এমতাবস্থায়  আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী । তবে দেখার কেউ নেই।

স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ জরুরি পদক্ষেপ না নেয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও এলাকাবাসীসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরা। ভারতের কভিড পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কভিড সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে  সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের জন্য সীমান্তের স্থলবন্দরগুলোয় যাত্রী চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও প্রশাসনসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় চলছে ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। গত ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টায় সরজমিনে গিয়ে  কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা লক্ষ করা যায় প্রতিটি অফিস থেকে শুরু করে পার্কিং ইয়ার্ড পর্যন্ত। আর বন্দরসংশ্লিষ্ট বাজার ঘাটের অবস্থা আরও অরক্ষিত। এতে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোমরা বন্দর দিয়ে যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ থাকলেও ভারত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ছয় শতাধিক ট্রাক এপার-ওপার আসা-যাওয়া  করে। ভারত থেকে আসা এসব  ট্রাকের চালক-হেলপারকে কোনো ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা  ছাড়াই অবাদে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুধু তাই নয়, এসব ট্রাকচালকরা বন্দরে ট্রাক রেখে অবাধে যত্রতত্র ঘোরাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া করছে স্থানীয় হোটেলগুলোয়। একইভাবে এসব ট্রাক থেকে কোনো স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কভিড ঝুঁকি নিয়ে পণ্য নামাচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। ফলে মারাত্মক কভিড ঝুঁকির মধ্যে আছে বন্দরে নিয়োজিত শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

দেশব্যাপী সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারি থাকলেও এসবের দায় নিতে রাজি না বন্দরসংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ বিশ্বজিত সরকার জানান, ইমিগ্রেশনের মধ্যে একটি থার্মাল স্ক্যানার রয়েছে। যার মধ্য দিয়ে কেউ গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার শরীরের তাপমাত্রা দেখা যায়। সেটি মূলত পাসপোর্ট যাত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পাসপোর্ট যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় থার্মাল স্ক্যানারটি এখন ব্যবহার হচ্ছে না।

কথা হয় বন্দরের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলামের সঙ্গে, তার ভাষ্যমতে, মালামাল নিয়ে ভারতীয় ট্রাকগুলো বন্দরের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হয়। এখানে আসার আগে বন্দর সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিভাগ আছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ট্রাক আসার অনুমতি দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম যেন পরিচালিত হয়, সে ব্যাপারে  জেলা  প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি জুম মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কাস্টমস সুপার আকবর আলী বলেন, গত ২৫ এপ্রিল ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ৩৪১টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ট্রাকের পণ্য খালাস করে বেশিরভাগ আবার ফিরেও যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টি আমাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নয়।

তিনি আরও বলেন, ভারতের বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশের সিঅ্যান্ডএফের যোগসূত্র রয়েছে। কোনো পণ্য এলে সিঅ্যান্ডএফ বা তাদের প্রতিনিধিরা ফাইল নিয়ে আমাদের দপ্তরে প্রবেশ করেন। তখন তাদের মাস্ক পরার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করি। তাছাড়া অফিসের বাইরে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো আছে। তবে  ভারতীয়দের কোনো কাজ না থাকায় তারা বেসিন দেখতে পাই না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন জানান, ভারতের ওপারে ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতীয় ড্রাইভার ও হেলপারদের হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার বিষয়টি বাংলাদেশে প্রবেশের পর সবসময় দেখা সম্ভব হয় না। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিং করে দ্রুত একটা কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়াত জানান, বিষয়টি নিয়ে সোমবার জেলা প্রশাসকের আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি জুম মিটিং ডাকা হয়েছে। বিষয়টি মূলত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করার কথা।

ভারতীয় চালক বা হেলপারদের এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, তাদের খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটি হোটেল বা স্থান ঠিক করা উচিত। একইসঙ্গে তারা যেন অবাদে ঘোরাফেরা করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির  প্রয়োজন আছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, বিষয়টি নিয়ে সোমবার জরুরিভাবে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি জুম মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারত থেকে আসা ট্রাকচালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (গতকাল) থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..