মত-বিশ্লেষণ

কভিড নয়, আমাদের সমাজ বৈষম্য করে

কভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের শিশুদের জন্য যে পাঁচটি সুযোগ নিয়ে এসেছে সেগুলো এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠে যেমনটা উঠে এসেছে, তার ওপর ভিত্তি করে শিশুদের জন্য কীভাবে আমরা আরও ভালো একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারি, সে বিষয়ে পাঁচটি শিক্ষা এখানে রয়েছে।

এক. টিকার কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে; দুই. ডিজিটাল বিভাজন দূর করা গেলে তা সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার পথ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে; তিন. কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি সামনে এনেছে; চার. কভিড-১৯ বৈষম্য করে না, তবে আমাদের সমাজগুলো করে; পাঁচ. জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে আরেকটি বৈশ্বিক সংকট, যা অপেক্ষা করবে না।

ক্রমবর্ধমান টিকাদানবিরোধী কথাবার্তা আমাদের প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে ফেলছে, যা আজকের দিনে ও এই যুগে পুরোপুরি নির্মূল করা উচিত। কারোই এমন কোনো রোগে ভোগা উচিত নয়, যা টিকা নিরাপদে প্রতিরোধ করতে পারে। টিকার কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।

ইতিহাস ও বিজ্ঞান আমাদের বলে, এই ভাইরাসের সমাপ্তি ঘটাতে এবং আমাদের জীবন ও জীবিকা ফিরে পেতে টিকাই সর্বোত্তম আশা। তা সত্ত্বেও একটি সত্যিকারের ঝুঁকি রয়ে গেছে যে, যাদের প্রয়োজন তাদের সবার কাছে কভিড-১৯ টিকা পৌঁছাবে না।

টিকা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। ২৭টি দেশের প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের প্রতি চারজনে প্রায় একজন কভিড-১৯ টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানাবে। মার্কিনদের ওপর করা অনুরূপ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে আসা অস্পষ্ট ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা টিকার ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারে।

এরই মধ্যে টিকাসংক্রান্ত ভুল তথ্য একটি বড় ও ক্রমবর্ধমান ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মহামারির সময়ে টিকাদানবিরোধী প্রচারকরা তাদের অনলাইন অনুসারী কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। আভাজের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার শীর্ষ ১০টি ওয়েবসাইট গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন এবং ফেসবুকে প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাইটগুলোর তথ্য যে পরিমাণ দেখা হয়, তার প্রায় চারগুণ বেশি দেখা হয় এই ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সাইটগুলো।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..