মত-বিশ্লেষণ

কভিড নিয়ে শিশুর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতে হবে

বর্তমানে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কভিড-১৯) নিয়ে যেসব বিষয় শুনছেন, তাতে অভিভাবকদের বিচলিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। শিশুসন্তানের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে বলে সহজেই ধরে নেওয়া যায়। তারা অনলাইন ও টিভিতে যা দেখছে বা অন্যদের কাছ থেকে এই ভাইরাস সম্পর্কে যা শুনছে, তা অনুধাবন করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই তাদের মধ্যে উদ্বেগ, চাপ ও দুঃখবোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু  বাবা-মা বা অভিভাবক শিশুসন্তানের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে ও সহায়তার মনোভাব নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করলে তারা সহজে বুঝতে পারবে এবং কঠিন এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

খোলা মনে প্রশ্ন করা ও শোনা: কভিড নিয়ে সন্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে, তারা এ বিষয়ে কতদূর জেনেছে এবং কী বিধিনিষেধ অনুসরণ করছে। খুব ছোট হলে এবং এখনও রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে না জেনে থাকলে তাদের কাছে বিষয়টি তোলার দরকার নেই। বরং তার মধ্যে ভয় না ছড়িয়ে শুধু যথাযথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার স্বাস্থ্যবিধিগুলো মনে করিয়ে দিন। শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং আপনার সন্তান যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দিন। ছবি আঁকা, গল্প বলা বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা শুরু করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে কখনোই খাটো করে না দেখা বা এড়িয়ে  যাওয়া। তাদের অনুভূতি-উপলব্ধিকে মেনে নিন এবং তাদের বোঝান, এসব বিষয়ে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক। আপনার আচরণে এটা প্রকাশ করতে হবে যে, পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে আপনি তার কথা শুনছেন এবং চাইলেই যেন আপনার ও তার শিক্ষকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারে, সেই আত্মবিশ্বাস তাদের দিতে হবে।

শিশুবান্ধব পদ্ধতিতে সত্যটা তুলে ধরতে হবে: বিশ্বজুড়ে যা চলছে, সে বিষয়ে জানার অধিকার শিশুদেরও রয়েছে। তবে বড়দেরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের মানসিক যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখা। তাদের বয়স অনুযায়ী কথা বলতে হবে। তারা কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তাদের উদ্বেগের মাত্রা অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে এবং তাদের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..