বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

কভিড-পরবর্তী সময়ে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে মাস্টারক্লাস

গ্রামীণফোন ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার ‘গেট ফিউচার রেডি: নিড ফর স্কিলস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও গ্রামীণফোন। তরুণদের দক্ষ করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কৌশলগত গুরুত্ব এবং দেশের বিশাল যুবসমাজকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলার ক্ষেত্রে তাদের রূপান্তরের ওপর আলোকপাত করে এ কর্মসূচির অধীনে তরুণ ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি অনলাইন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈশ্বিক মহামারি তরুণদের উন্নয়নে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই উদ্যাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব যুব দিবস।’ আবার একই সঙ্গে কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব প্রযুক্তিগত বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছে। ফলে গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো এবং নিয়ত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের কারণে তরুণদের দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। দক্ষতা উন্নয়ন তরুণদের সম্ভাবনা উম্মোচনে এবং সবার জন্য সমৃদ্ধ আগামীতে তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে।

‘গেট ফিউচার রেডি: নিড ফর ফিউচার স্কিলস’ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি বলেন, মহামারি মোকাবিলায় আজকের তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন জরুরি। তরুণদের আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আধুনিকায়নের বিষয়ে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ জন্য সবার সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।

এর আগে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান ‘গেট ফিউচার রেডি: নিড ফর স্কিলস’ বিষয়ে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি কভিড-১৯ ও কভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বে তরুণদের সক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্যে তরুণরা কীভাবে বেড়ে উঠছে। তিনি বলেন, ‘তরুণদের প্রাধান্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে এবং ভবিষ্যতে তাদের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে দেশের সম্ভাবনা উম্মোচনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বর্তমানের প্রযুক্তিগত বিপ্লব ত্বরান্বিত করা আমাদের কভিড-পরবর্তী যুগে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ পরবর্তী আমাদের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা এবং দেশের ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপির এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী। আলোচনায় ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে মানুষ পরিশ্রমী এবং সব সময়ই উৎপাদনশীল সেখানে সংকটে বা যে কোনো সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা দরকার হয়ে থাকে। আমরা যদি কাউকে এ সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বাদ দিতে না চাই তাহলে আমাদের তথ্যভিত্তিক পন্থা অবলম্বন করতে হবে। তথ্য প্রাপ্তি ও বিশ্লেষণ করা বিষয়ে ইউএনডিপি এবং গ্রামীণফোন যৌথভাবে কাজ করতে পারে।  

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডি) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘আধুনিক উৎপাদনশীল খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হারও বাড়ছে। এখানে একটি গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। কারণ প্রশিক্ষণগুলো বাজার নির্ভর হচ্ছে না, কারিকুলামগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতাভিত্তিক নয় এবং সর্বোপরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের এই বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে নজর দিতে হবে এবং বাজার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. মশিউর রহমান, সিএএমপিই’র নির্বাহী পরিচালক রাশেদাকে চৌধুরী এবং আইএলওর স্কিলস প্রোগ্রামের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লোটে কাইজার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এদিন এর আগে গ্রামীণফোন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের পক্ষে জিপি অ্যাকসেলেরেটর ‘ইমপ্যাক্ট অব ফোরআইআর অ্যান্ড স্কিলস-রেডিনেস অব বাংলাদেশ’স স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম’ নিয়ে এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। স্টার্টআপগুলোর প্রবৃদ্ধি ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহায়তাদানের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোর ক্ষমতায়নে কাজ করে জিপি অ্যাকসেলেরেটর। জিপি অ্যাকসেলেরেটর আয়োজিত এ ওয়েবিনারে বেসিসের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান, গ্রামীণফোনের চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অফিসার সোলায়মান আলম, ইউএনডিপি এশিয়া প্যাসিফিকের ইয়ুথ সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন কনসালটেন্ট সে ওয়াই চেং এবং ইন্টেলিজেন্স মেশিনসের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ অলি আহাদ অংশ নেন এবং আমাদের স্টার্টআপগুলো কীভাবে ডিজিটাল রূপান্তরের সুবিধা পেতে পারে, তা নিয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরেন। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস মো. খায়রুল বাশার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..