সম্পাদকীয়

কভিড প্রণোদনার ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন জরুরি

অতিমারি করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড-১৯) ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে সর্বত্র। এটি মোকাবিলায় কয়েক ধাপে প্রণোদনা ঘোষণা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কভিডকালে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ক্ষতি থেকে উত্তরণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে গতি সঞ্চার এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকার আরও দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ দুটিসহ মোট প্রণোদনা প্যাকেজের সংখ্যা হলো ২৩টি; এগুলোয় মোট অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।

প্রণোদনার অর্থ যথানিয়মে বিতরণ করা হলেই সুফল পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তাই প্যাকেজের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের উদ্দেশ্য প্যাকেজ করা হয়েছে, তারা এর থেকে সহায়তা পাচ্ছেন কি না, কোনো সচ্ছল ব্যক্তি এ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে এর থেকে সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করি। ঋণ ও সহায়তা কারা পাবে, তা যাচাই-বাছাইয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষণীয় যে, কভিডকালে ত্রাণ বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের ওপর পুরোপুরি ভরসা করা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের খবর আসে গণমাধ্যমে। প্রণোদনার অর্থ বিতরণে জনপ্রতিনিধিদের ভ‚মিকা থাকবে কি না বা কীভাবে থাকবে; সে বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আশার কথা, প্রণোদনা বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। তাই এটি প্রত্যাশিত যে, দলীয়করণ বা প্রভাবশালীরা প্রভাব না খাটাতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গতি সঞ্চার, গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র বয়স্ক ও বিধবাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই প্রণোদনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শৈথিল্য কাম্য নয়।

প্রতিটি খাতে ঋণ বিতরণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, প্রতি মাসে তদারকি প্রতিবেদন নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। এটি করা গেলে যাদের জন্য এ কর্মসূচি চালু তারাই উপকৃত হবে। কোনো পর্যায়ে অনিয়ম হলে বা তদারকি না থাকলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। তাই যত দূর সম্ভব সরাসরি ব্যক্তির কাছে ঋণ-সহায়তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা দেয়া যেতে পারে। যেমনÑএকটি ফোন নম্বর দেয়া যেতে পারে। তাতে আবেদনকারী সরাসরি অভিযোগ, বক্তব্য জানাতে পারেন। তাহলে কেউ অনিয়ম করার সুযোগ পাবেন না বলে মনে করি।

মনে রাখতে হবে, নতুন ঘোষিত প্রণোদনাগুলোর সুবিধাভোগীরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। প্রণোদনা দুটি সফলভাবে বিতরণ করা গেলে পল্লি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বিধান এক ধাপ এগিয়ে যাবে। যেসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ করা হবে, সে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সমন্বয় আবশ্যক। ক্ষুদ্র, মাইক্রো, কুটির ও মাঝারি শিল্পগুলোর ঋণ আদায় হার ৯৯ শতাংশ। যথানিয়মে এ ধরনের  প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া গেলে এ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই বড় শিল্পে পরিণত হতে পারবে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী স্বনির্ভর হবে। তবেই ঘোষিত প্রণোদনার উদ্দেশ্য সফল হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..