প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কভিড প্রতিরোধে সতর্কতা

দেশে আবার কভিডের প্রকোপ বাড়ছে। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। তবে এখনও দেশ বা বিশ্ব ভাইরাসমুক্ত নয়। 

উপসর্গ: এবারও কভিড সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণগুলো প্রায় একই রকম। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি হ্রাস, ক্ষুধামান্দ্য, দুর্বলতা, শরীরে ব্যথাÑএর সবই হতে পারে কভিডে আক্রান্ত হলে। তবে গলাব্যথা, গলার স্বর ভেঙে যাওয়া ও প্রচণ্ড শুকনো কাশি এবার অন্যতম উপসর্গ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বয়স্ক ব্যক্তিদের আরও বেশকিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে কভিডের সংক্রমণে। অস্বাভাবিক আচরণ, অসংলগ্ন কথাবার্তা, এমনকি মূর্ছা যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

সংক্রমণ ঠেকাতে করণীয়: বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে; যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে; বিশেষ কোনো কাজ না থাকলে ঘরে থাকাই শ্রেয়; নিয়মিত বিরতিতে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে; হাঁচি-কাশির সময় অবশ্যই নাকে-মুখে রুমাল ব্যবহার করতে হবে। অথবা মুখ-নাক এমনভাবে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে পরিবেশে ভাইরাস ছড়াতে না পারে। তাই এখন কারও জ্বর ও আনুষঙ্গিক উপসর্গ দেখা দিলে কভিড ও ডেঙ্গুর পরীক্ষা করতে হবে। মনে রাখা দরকার, কভিডের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়।

আক্রান্ত হলে করণীয়: অবশ্যই আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা ঘরে থাকতে হবে; দুটি টিকা ও একটি বুস্টার ডোজ সম্পন্ন থাকলে ঘরে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন; সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। যথেষ্ট পরিমাণ পানীয়, শরবত, তরল খাবার খান; এ সময়ের মৌসুমি ফল, যেমন আম, লিচু, কাঁঠাল প্রভৃতিতে পর্যাপ্ত ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই এসব ফল খাবেন। উপসর্গ অনুযায়ী জ্বর-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ খাবেন; সর্দি-কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে; চিকিৎসকের পরামর্শে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা কভিডের জন্য অ্যান্টি-ভাইরাস ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন; তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কিংবা অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে; গর্ভবতী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত, তারা অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা নেবেন।

পরামর্শ: যারা এখনও বুস্টার ডোজ নেননি, তারা বুস্টার ডোজ নিন; বুস্টার ডোজ গ্রহণের পরও অনেকে কভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে টিকাদানের কারণে কভিডের ভয়াবহতা ও মৃত্যুহার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ ডোজ টিকা নিতে হবে।

লে. কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সিএমএইচ, ঢাকা