দিনের খবর মত-বিশ্লেষণ

কভিড বিষয়ে সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবীদের করণীয়

প্রতিবেদনে গুজব বা রটনা পরিহার করতে হবে। সম্ভব হলে খণ্ডন করতে হবে। মানুষের মুখের কথা বা গুজব প্রচার করা যাবে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধের ও বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রচারিত কোনো গুজবে প্রভাবিত হবেন না। উদাহরণস্বরূপ ধরা যেতে পারে এমন কোনো সংবাদ, যেখানে কোনো ব্যক্তিবিশেষের কভিড-১৯ নিরাময়ে কোনো অলৌকিক ওষুধ আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়েছে, যা কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, কিংবা মোট সংক্রমণের সংখ্যা অথবা ভাইরাসজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা-সম্পর্কিত কোনো অসমর্থিত তথ্য রয়েছে ওই সংবাদে। কেবল যোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ জনস্বাস্থ্য পেশাদার বা চিকিৎসক যিনি ভাইরাস বিদ্যায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং কভিড-১৯-সংক্রান্ত কাজ করেছেন, তাদেরই উদ্ধৃত করতে হবে এবং এক্ষেত্রে তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা যাচাই করতে হবে।

প্রতিবেদনের ভাষা সহজ রাখতে হবে এবং সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। মানুষকে কভিড-১৯ সম্পর্কে বোঝাতে দৈনন্দিন ভাষা ব্যবহার করুন। আপনার মনে হতে পারে যে ডাক্তারি বা বৈজ্ঞানিক পরিভাষার ব্যবহার আপনার প্রতিবেদনকে সমৃদ্ধ করবে, কিন্তু এগুলো তখনই ব্যবহার করবেন যখন আপনি এগুলোকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কীভাবে ভাইরাসটির সংক্রমণ হয় এবং কীভাবে এটির কবল থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে রক্ষা করা যায়, এ বিষয়ে মানুষকে যত সহজভাবে জানাবেন, মানুষ ততই উপকৃত হবে।

কভিড-১৯ সম্পর্কে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য সঠিকভাবে পেতে এবং সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করার জন্য সাংবাদিকদের বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।

গোপনীয়তাকে সম্মান করতে হবে। কভিড-১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তি এবং তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান করুন। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয়, ঠিকানা, পারিবারিক সূত্র এবং ব্যক্তিগত ও চিকিৎসা রেকর্ডগুলো কোনোভাবেই তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা, এমনকি ইঙ্গিত করাও উচিত নয়। অনুমতি ছাড়া রোগীদের ফটো ও ভিডিও মুদ্রণ বা সম্প্রচার করাও উচিত নয়।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..