বিশ্ব সংবাদ

কভিড শনাক্ত রোগী ১০ কোটি ছাড়াল

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গত বছর ডিসেম্বরে শুরু কভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ কোটির দুঃখজনক মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্যে, বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ কোটি দুই লাখ ১৬ হাজার ৪০৩ জন। এর অর্ধেক রোগীই শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ব্রিটেনে।  বিশ্বব্যাপী মৃত্যু হয়েছে ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৭ জনের। আর আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এমন একসময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ কোটির ঘর ছাড়াল যখন ভাইরাসের প্রকোপ কমিয়ে আনতে বিশ্বজুড়ে চলছে বড় আকারে টিকাদানের প্রস্তুতি।

চীনের উহানে প্রথম এ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আট মাসের মাথায় গত আগস্টে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছিল আড়াই কোটিতে। সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৯ নভেম্বরে পৌঁছায় পাঁচ কোটিতে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ফের দ্বিগুণ হয়ে ১০ কোটিতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র আড়াই মাস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে ছড়াতে শুরু করা নতুন ধরনের এ করোনাভাইরাস বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যেতে খুব বেশি সময় নেয়নি। কিন্তু অনেক দেশেই এখনও করোনাভাইরাস পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর অনেক তথ্যই হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

আক্রান্তের সংখ্যায় সবার উপরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত দুই কোটি ৫৪ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা বিশ্বের মোট শনাক্ত রোগীর এক চতুর্থাংশ। মৃত্যুর সংখ্যাতেও যুক্তরাষ্ট্র সবার চেয়ে এগিয়ে, এ পর্যন্ত চার লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেখানে।

সংক্রমণের সংখ্যায় ভারত এখন বিশ্বে দ্বিতীয়। দেশটিতে এক কোটি ছয় লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে।মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার মানুষের। মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল, সেখানে দুই লাখ ১৮ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এ ভাইরাস। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত হয়েছে আট কোটি ৯৩ লাখের বেশি মানুষ। 

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সামান্য কমে আসে। তবে ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল থেকে ছড়াতে শুরু করে করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক নতুন কয়েকটি ধরন, যা এখন মাথাব্যথার বড় কারণ।

২০২১ সাল বিশ্বে এসেছে করোনাভাইরাসের টিকার আশা নিয়ে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ নাগরিকদের টিকা দেয়ার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তবে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে টিকা দিতে লাগবে বহুদিন। কিছু ধনী দেশ তা দ্রুততার সঙ্গে পারলেও গরিব অনেক দেশের টিকা পাওয়াই এখনও নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান মাইকেল রায়ান বলেছেন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে যারা আছেন, তাদের টিকাদান নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট টিকাও এখনও বিশ্বের হাতে নেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..