দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কভিড-১৯ টিকায় মৃত্যু সংবাদে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক

শেখ আবু তালেব: যন্ত্রণাদায়ক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে করোনা টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে। এ পর্যন্ত ভারত, জার্মানি ও নরওয়েতে টিকা নেয়ার পর মারা গেছেন ৩৮ জন। বিশেষ করে বার্ধক্যে উপনীতদের মধ্যে মৃত্যু হার বেশি। এতে করোনা প্রতিষেধক টিকা নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক দেশের নাগরিক। ইতোমধ্যে নরওয়ে সরকার সবাইকে ফাইজারের টিকা দিতে নিষেধ করেছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার পাঁচ কোটি ডোজ টিকার ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে।

একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফাইজারের টিকা প্রয়োগের পর এ পর্যন্ত ২৯ জন ব্যক্তি মারা গেছে নরওয়েতে।

অপরদিকে ব্ল–মবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নরওয়েতে মারা যাওয়াদের সবাই বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন। টিকা দেয়ার পরই তাদের জ্বর, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ভুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এমনতিতে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে ছিলেন তারা। তার ওপর নতুন রোগ দেখা দেয় তাদের শরীরে। এর ফলে তারা মারা যান।

নরওয়ে মেডিসিন এজেন্সির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরে ব্ল–মবার্গ জানিয়েছে, নার্সিং হোমে থাকা ব্যক্তিরাই মারা গেছেন। মারা যাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নরওয়ে সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ধরন বদলিয়েছে। টিকা দেয়ার বিষয়ে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। কিন্তু সব চিকিৎসকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে, ফাইজারের টিকা সব নাগররিককে না দিতে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসকরা নির্ধারণ করবেন কাদের ওপর ফাইজারের টিকা প্রয়োগ করা যাবে। রোগাক্রান্ত, শারীরিকভাবে দুর্বল ও বয়স্কদের এ টিকা দিতে নিষেধ করা হয়। প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও বয়স যাচাই-বাছাই শেষে টিকা দেয়া যাবে কি নাÑতা চিকিৎসকদেরই নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে টিকার পার্শপ্রতিক্রিয়া সহনশীল ব্যক্তিদের ওপর দিতে বলা হয়।

সরকারি ওই নির্দেশনায় বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিও একটি আবেদন জানিয়েছেন নরওয়ে। আবেদনে বলা হয়, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রেরই ফাইজারের টিকা প্রয়োগের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা দরকার। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের বেলায়। নরওয়েতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে ফাইজার ও বায়োএনটেক। ব্ল–মবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাইজার ও বায়োএনটেকের বিশেষজ্ঞরা কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এদিকে ইসরাইলে ফাইজারের টিকা নেয়ার পর ১৩ জনের চেহারা প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছেন। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করেছে আউটলুক ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।

অপরদিকে আল-জাজিরা জানিয়েছে, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সিএসএল লিমিটেডের আবিষ্কৃত টিকায় সমস্যা পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গুরুতর হওয়ায় পাঁচ কোটি ১০ লাখ টিকার ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে দেশটি। সিএসএলের টিকা করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সিডনি পুঁজিবাজারে সিএসএলের শেয়ার দরেও পতন হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে মারা গিয়েছেন দুজন। এর মধ্যে একজনের বয়স ৪৩, অপরজনের ৫২। দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছেন, দেশটির উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের ৫২ বছর বয়সী এক পুরুষকে গত ১৬ জানুয়ারি টিকা দেয়া হয়েছিল। তিনি পরের দিন ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মারা যান। অপরজন হচ্ছেন কর্নাটকের বাসিন্ধা। ৪৩ বছর বয়সী পুরুষ ব্যক্তিও টিকা নিয়েছিলেন ১৬ জানুয়ারি। তিনি গতকাল (১৯ জানুয়ারি) মারা যান।

অবশ্য ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তির মারা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত তথ্য দিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৫২ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে হƒদযন্ত্রের সমস্যার কারণে। গতকাল পর্যন্ত টিকা নেয়াদের মধ্যে ৫৮০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে ভারতে। এর মধ্যে সাতজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়েছে।

ভারতে গতকাল পর্যন্ত এক কোটি পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে এক লাখ ৫২ হাজার ৫৫৬ জন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

টিকা নেয়ার পর জার্মানিতে মারা গেছেন সাতজন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আট লাখ ব্যক্তির ওপর টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নিচ্ছে জার্মানি। দেশটির পল এরলিক ইনস্টিটিউটের এক তদন্ত প্রতিবেদনে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের ক্যানসার, কিডনি জটিলতা ও অ্যাজমা সমস্যা বৃদ্ধি পায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গতকাল রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত সারা বিশ্বে কভিড-১৯ এ আক্রান্তদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার। এর মধ্যে নিহত হয়েছেন ২০ লাখ ২৯ হাজার।

মহাদেশভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় সর্বোচ্চ চার কোটি ১৭ লাখ ৭৬ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। ইউরোপে তিন কোটি ছয় লাখ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেশগুলোতে এক কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার, ভূমধ্যসাগরীয় পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোতে ৫৩ লাখ ৮২ হাজার, আফ্রিকায় ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ও পশ্চিম প্রশান্ত মাহসাগরীয় এলাকার দেশগুলোতে এ সংখ্যা হচ্ছে ১২ লাখ ৯০ হাজার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..