দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আরও কয়েকটি স্থানে কভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষা করা হবে। গতকাল কভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯ পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে আইইডিসিআরে করা হবে। এখন যেহেতু রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে, পরবর্তী সময়ে সাসপেক্টেড রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, সে কথা মাথায় রেখেই আমাদের পরীক্ষার পদ্ধতি আরেকটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ঢাকার জনস্বাস্থ্য হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই রোগের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এ পরীক্ষা পদ্ধতি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘ঢাকার বাইরে আজ বা আগামীকালের (২৫ অথবা ২৬ মার্চ) মধ্যে পরীক্ষা পদ্ধতিগুলো শুরু হয়ে যাবে।’

মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর আইইডিসিআরে নমুনা পরীক্ষা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ এক ব্যক্তির পরিবার নমুনা সংগ্রহের জন্য আইইডিসিআরে যোগাযোগ করলেও তারা সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যক্তির ছেলে। আইইডিসিআরের নমুনাপত্র না থাকায় অসুস্থ ব্যক্তিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালও ভর্তি নিতে চায়নি। পরে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা যান ওই ব্যক্তি।

এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করছেন, আইইডিসিআরে আবেদন করা হলেও তাদের নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা করা হচ্ছে না।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এদিন সেসব অভিযোগের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা মেনে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে, সেখানে সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে আইইডিসিআর কাজ করছে। সেখানে যদি কারও মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ থাকে, তার নমুনা এনেও পরীক্ষা করছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষা পদ্ধতি ফলো করে যতজনের পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল, ততজনের পরীক্ষা করেছি।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণে নমুনা সংগ্রহ, পরামর্শ ও তথ্যের জন্য আইইডিসিআর আরও দুটি হটলাইন বাড়িয়েছে। পাশাপাশি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) জনস্বাস্থ্য বিভাগের হটলাইন নম্বরগুলোও এবার আইইডিসিআর হটলাইন কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে।

১৩টি হটলাইন নম্বরে কল করেও সাধারণ মানুষ যখন সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এসেছে, তখন এই নতুন নম্বরগুলো যোগ করা হচ্ছে বলে জানান আইইডিসিআর পরিচালক।

কভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ও জানতে ১৩টি হটলাইন নম্বরে বিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা না করে এখন থেকে ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ১০৬৫৫ নম্বর দুটিতে কল দিতে অনুরোধ করেছে আইইডিসিআর।

ডা. ফ্লোরা বলেন, ‘এই দুটো নম্বরে যদি ফোন করেন, তাহলে তা হান্টিংয়ের মাধ্যমে যে নম্বরটি খালি থাকবে কলটি সে নম্বরে চলে যাবে।’

এছাড়া আইইডিসিআরের ই-মেইল ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরেও পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হবে।

আইইডিসিআরের পরিচালক জানান, এই হটলাইন সেবাকে জেলা হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। হটলাইন নম্বরগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

এছাড়া এখন করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৩টি নম্বর সবসময় খোলা পাওয়া যাবে। হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..