দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

কভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কার করতে হবে

ঢাকা চেম্বারের ওয়েবিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯-এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি মোকাবিলায় টিকে থাকা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ওয়েবিনারে তারা বলেন, কভিড-১৯ এর ফলে বৈশ্বিক চাহিদা ও সাপ্লাই দুটোই উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। অর্থনীতির এ অবস্থা উত্তরণে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

গতকাল ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ, যেখানে দেশের অর্থনীতির ২০টি খাতের বর্তমান অবস্থা ও খাতগুলোর উন্নয়নে সুপারিশ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, চলমান কভিড মহামারি পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে অনেক কঠোর পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কভিড-উত্তর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সরকারের যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, এ পরিস্থিতির ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ কমেছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে দুই দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। ডিসিসিআই সভাপতি চীন হতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও কৌশল এখনই নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ শতাংশ কম রপ্তানি অর্জিত হয়েছে। ডিসিসিআই’র সভাপতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাওয়া, অশুল্ক বাধাগুলো দূরীকরণ ও সম্ভাবনাময় অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর জোরারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা বলেন, বাজেটে সরকার করপোরেট করসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে সরকার ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির অসৎ কাজের জন্য দেশ-বিদেশে আমাদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে, বিষয়গুলো যেন পুনরায় না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি সব খাতে কমপ্লায়েন্স হতে হবে এবং গুড গভর্ন্যান্স নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

কভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামের উদাহরণ উপস্থাপন করে বলেন, এক্ষেত্রে আমরা তা অনুসরণ করতে পারি। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর আরও সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যাংক খাতে আরও ডিজিটাইলাইজেশন এখন সময়ের দাবি এবং তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের ব্যাংক হিসাব না থাকায় সরকার কভিড-১৯ মোকাবিলায় নগদ আর্থিক সহায়তা সবার মাঝে পৌঁছাতে পারেনি।

মন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ সম্পর্কে প্রথমদিকে আমাদের ধারণা না থাকায় স্বাস্থ্য খাতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল, তবে সময়ের ব্যবধানে আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি। তিনি জানান, আশিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হলে, বাংলাদেশকে আশিয়ানের পর্যবেক্ষক মর্যাদা অর্জন করতে হবে, এছাড়াও তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, বিল্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান এবং চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম অংশগ্রহণ করেন।

ড. মাশরুর রিয়াজ কভিড-১৯-এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি মোকাবিলায় টিকে থাকা, স্থিতিশীলতা বজায়ে রাখা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেন। তিনি করপোরেট কর, টার্নওভার কর প্রভৃতি কমানোর প্রস্তাব করেন এবং কোম্পানি আইনের যুগোপযোগীকরণ। মাশরুর রিয়াজ কভিড-১৯ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট নীতিমালাগুলোর সংস্কার ও বন্ড মার্কেট আরও কার্যকরের ওপর জোরারোপ করেন।  

হোসেন খালেদ বলেন, ব্যাংক খাত হতে সরকারের বেশিমাত্রায় ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহকে কমিয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের শিল্প খাত বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ ধরে রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং এ অবস্থা মোকাবিলায় ব্যাংক ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি পুঁজিবারের ওপর সবার আস্থা বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আরও বেশি হারে ‘সবুজ প্রকল্প’ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..