প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কভিড-১৯ রোধে ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড প্রতিষ্ঠা জরুরি

সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ট্রাস্ট এবং আর্ক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে গতকাল বক্তারা এ অভিমত দেন। ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির একেএম মাকসুদ ও আর্ক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রোমানা হক। অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ে গবেষণা উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট কানিজ কান্তা ও আইনজীবী তামান্না তাবাসুম।

ওই দুই গবেষক বলেন, এ কথা স্বীকার করতে হবে, এ দুর্যোগে সাধারণ ছুটিতে বাংলাদেশ উন্নত কল্যাণকর রাষ্ট্রের মতো অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সমন্বয় ও পরিকল্পনার অভাবে সাধারণ ছুটি বা লকডাউন প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর হয়নি। সিএলপিএ ট্রাস্টের গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা যায়, লকডাউন বা সাধারণ ছুটির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি।

ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ের জন্য ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড জরুরি। একেএম মাকসুদ বলেন, আইনের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কভিড-১৯ কিছু বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি করে, গবেষণার মাধ্যমে ওই বিষয়গুলো তুলে এনে আইনটি সংশোধন করা জরুরি। ড. রোমানা হক বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ করা উচিত। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়িত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় একটি রেফারেল ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের হাতে নেই। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্যও আইন করা প্রয়োজন। কেননা তামাকের ব্যবহার কভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে।