আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা সুস্বাস্থ্য

কভিড-১৯ সংক্রমণ তীব্রতা হারিয়েছে

ড. শামসুল আলমের পর্যালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি ও মৃত্যুতে আমরা ভীত-শঙ্কিত। বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ও শঙ্কায় অর্থনীতি এখনও গতিহীন। বিশ্বের ২১৩টি দেশে কভিডের সংক্রমণ ঘটেছে। বাংলাদেশেও উদ্বেগ-আতঙ্ক নিয়েই অর্থনৈতিক কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে উš§ুক্ত করা হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে সংক্রমণের তীব্রতা অনেক কমে গেছে। পাশাপাশি কভিডে মৃত্যুহারও আশাব্যঞ্জকহারে কমেছে।

এমন পর্যালোচনা জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। গতকাল গণমাধ্যমকে তিনি এ পর্যালোচনা জানান।

তিনি তার পর্যালোচনায় উল্লেখ করেন, এপ্রিলে পাঁচ দশমিক আট শতাংশ হারে সংক্রমণ বেড়েছে। মে মাসে সংক্রমণের হার বৃদ্ধির প্রবণতা নেমে আসে দুই দশমিক তিন শতাংশে। জুন মাসে এসে সংক্রমণ বাড়ল শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ হারে। সংখ্যাতাত্তি¡কভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এ সময়ে স্পষ্ট হলো, সংক্রমণের ধার কমেছে এবং জুনে এসে সংক্রমণ কার্ভটি প্রথম ফ্ল্যাট হয়।

জুলাই মাসেও সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে ফ্ল্যাট থাকতে দেখা যায়। আর এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারায় নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এখানে উল্লেখযোগ্য হলো, বর্তমানে একজন রোগী একজনের কম ব্যক্তিকে সংক্রমিত করছেন। এটি সংক্রমণ হার কমে যাওয়ার ‘টার্নিং পয়েন্ট’।

অন্যদিকে মৃত্যুহার পর্যালোচনা করে বলা হয়, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মৃত্যুহার কার্ভটি প্রথম সমান্তরাল (ফ্ল্যাটেন) হয়, যা জুনে এসে আরও নিম্নগামী হয়। জুলাইতে মৃত্যুহার সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ মাসেই কভিডে মৃত্যুহারের ভয়াবহতা কমেছে।

মৃত্যুহারের পুরো সময় পর্যালোচনা করে দেখলে বোঝা যায়, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মৃত্যুহার নিম্নমুখী হতে শুরু করে। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে মৃত্যুহার কমেছে শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ হারে। এর অর্থ হচ্ছে আক্রান্তদের এখন কমই মৃত্যু হচ্ছে। এটা কমতে থাকবে। উল্লিখিত দুই প্রধান ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ প্রাকৃতিকভাবেই স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে। টিকা না আসা পর্যন্ত হয়তো সংক্রমণ সীমিত পর্যায়ে থেকে যাবে এবং সংক্রমণ হলেও কদাচিত মৃত্যু হবে।

পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, ‘হার্ড ইমিউনিটি’র প্রমাণ মেলে। কারণ গ্রাম-গ্রামান্তরে জনগণের মধ্যে সংক্রমণের বিস্তার ব্যাপকভাবে ঘটছে না। দারিদ্র্যপ্রবণ ও বস্তি এলাকায় সংক্রমণ বিস্তারের খবর নেই। খুলে দেওয়া গার্মেন্টগুলোয় সংক্রমণের কোনো খবর নেই। সাধারণ শ্রমিকশ্রেণি কাজে ফিরেছে। বাজার কার্যক্রম পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে। তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী হতে পারে? তার আগে বলে নিই, এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাপ্ত শতকরা সংক্রমণ ও শতকরা মৃত্যুহারের তথ্যের ভিত্তিতে এই উপসংহারে আসা। অবশ্য গবেষণার গুরুত্ব যে অপরিসীম কভিডের ক্রান্তিকালে, এটা ভালোভাবে বোঝা যায়। দেশের অণুজীব বিজ্ঞানী ও ভাইরোলজিস্টদের ‘তাত্ত্বিকভাবে নয়’, গবেষণা ফলাফলের ভিত্তিতেই বলা উচিত মিউটেশনের মাধ্যমে জিনগত পরিবর্তন ঘটে কভিড-১৯ বাংলাদেশে দুর্বল হয়ে পড়েছে কি না? জাতিকে তাদের জানানো উচিত।

ড. শামসুল আলমের মতে, বর্তমানে সংক্রমণের যে ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ চলছে, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিধি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন, জনবহুল দেশে ব্যাপকভাবে জনস্থানান্তর কিংবা জনসমাবেশ কভিড সংক্রমণ সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে অবশ্যই পারে, যদিও মৃত্যুর হার হয়তো তেমন বাড়বে না। সংক্রমণ এলাকাগুলোয় লকডাউন কার্যকর রাখতে হবে। মাস্ক, গ্লাভস ও শারীরিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক-এই তিন মেনে অফিস কার্যক্রম এবং অর্থনীতির সব কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করতে হবে। সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্ক, গ্লাভস ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা গেলে খুলে দেওয়ার কথা এখন বিবেচনা করা যায়। অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তিমত্তা ও জনগণের ইতিবাচক সক্রিয়তার কারণে আমাদের অর্থনীতি দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..