দিনের খবর প্রচ্ছদ

কমছে চাল ও তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: শীতের সবজিতে কাঁচাবাজারে স্বস্তির পর এবার কমেছে চাল, পাম অয়েল ও খোলা ভোজ্যতেলের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে তেলের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, শান্তিবাগ কাঁচা বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১৫-১২০ টাকা। তবে এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে। আগের সপ্তাহে এক লিটার ওজনের সয়াবিন বোতল ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই বোতলের দাম রাখা হচ্ছে ১৩০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে বোতল পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৫৬০-৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও এই সয়াবিন একই দামে বিক্রি হয়েছিল।

মালিবাগ কাচাবাজারের মুদি দোকানি কাজল মিয়া বলেন, এক লিটার সয়াবিন তেলের গায়ের দাম দেয়া আছে ১২৫ টাকা, এর কোনোটা ১৩০ টাকা। বিক্রি করছি গায়ের লেখা খুচরা মূল্য অনুযায়ী। তবে কিছু মুদি দোকানে এখনও প্রতি লিটার ১২০ টাকা এমআরপির বসুন্ধরা ও তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে। বোতলজাত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে পরিবেশকরা আভাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুদি দোকানি শাহীন।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে সব ধরনের পাম ও সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ। খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চিকন, মোটা ও মাঝারি এই তিন ধরনের চালের দামই কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় মোটা চালের দাম কমেছে কেজিতে দুই টাকা করে। এছাড়া চিকন ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে কমেছে এক টাকা করে। খুচরা ব্যবসায়ীরা মোটা চাল বিক্রি করছেন ৪৩-৪৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই চাল ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬৫ টাকা কেজি। মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০, গাজর ৩০ থেকে ৪০, শিম ৩০-৪০, বেগুন ৩০, করলার ৩০-৪০, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০, পাকা টমেটো ৩০, কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ২৫, বরবটি ৪০

 থেকে ৫০ টাকায়। প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, ১০ টাকা কমে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ২০-৩০ টাকায়, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

হালিতে পাঁচ টাকা কমে কলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়, জালি কুমড়া ৩০ টাকায়, ছোট মিষ্টি কুমড়ার কেজি ২৫ টাকার মধ্যে। দাম কমেছে নতুন আলুর। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আদা প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, রসুনের কেজি ১২০ টাকা। 

বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বকরির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০, মহিষ ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা। আর ২০ টাকা দাম বেড়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায় ও ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।

এসব বাজারে প্রতি কেজি শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০, মাগুর মাছ ৬০০, মৃগেল ১১০ থেকে ১৫০, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৫০, ইলিশ প্রতি কেজি (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১০০০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০, বোয়াল মাছ ৪০০ থেকে ৫০০, কাতল ১৭০ থেকে ২৮০, ফোলি মাছ ৩০০ থেকে ৪০০, পোয়া মাছ ২০ আগের ২০০ থেকে ২৫০, পাবদা মাছ ১৫০ থেকে ২৫০, টেংরা মাছ ১৮০ থেকে ২০০, টাটকিনি মাছ ১০০, তেলাপিয়া ১৪০, সিলভার কাপ ১০০ থেকে ১৪০, কই দেশি মাছ ১৫০ থেকে ৭০০, কাঁচকি ও মলা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০, ছোট বেলে ১২০, রূপচাঁদা মাছ কেজি ৫০০ থেকে ৬০০, আইড় মাছ ৫০০ টাকায়, রিটা মাছ ২২০ টাকায় ও কোরাল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..