প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কমছে প্যাকেজ ভ্যাট: অব্যাহতি পুনর্বহাল হচ্ছে কনফেকশনারি আইটেমে

 

মাসুম বিল্লাহ: চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাট প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তর প্রতিবাদে আন্দোলন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তারা ২০ শতাংশ বর্ধিত হারে ভ্যাট পরিশোধের মত দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা নিয়েও ব্যবসায়ীদের আপত্তি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্যাকেজ ভ্যাট কমাতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে বিস্কুট, পাউরুটিসহ কনফেকশনারি আইটেমে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা পুনর্বহাল হতে যাচ্ছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত অর্থবছর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্যাকেজ ভ্যাট ছিল ১৪ হাজার, অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ১০ হাজার, জেলা শহরের পৌর এলাকায় সাত হাজার ২০০ ও দেশের অন্যান্য এলাকায়  তিন হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে হতো। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ১৪ হাজার টাকার স্থলে ২৮ হাজার, ১০ হাজারের স্থলে ২০ হাজার, সাত হাজার ২০০ টাকার স্থলে ১৪ হাজার এবং তিন হাজার ৬০০ টাকার স্থলে সাত হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। ব্যবসায়ীরা শুরু থেকেই এ ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তার ধারাবাহিকতায় প্যাকেজ ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এনবিআর। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

এর আগে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮ হাজার, অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ১৪ হাজার, জেলা শহরের জন্য ১০ হাজার এবং দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য পাঁচ হাজার টাকার প্যাকেজ ভ্যাট পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল। বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে প্যাকেজ ভ্যাট থেকে ১০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আদায় হয়।

এদিকে রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ও প্লাস্টিকের পাদুকা এবং হাতে তৈরি পাউরুটি, বানরুটিসহ অন্যান্য কনফেকশনারি আইটেমের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল হতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এ অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল দাবিতে গত ২ নভেম্বর ধর্মঘট পালন করেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী অর্থবছর থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআর-নন এনবিআর মিলে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ১৫০ কোটি টাকা।