প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কমনওয়েলথ ব্যাংককে ৫৩ কোটি ডলার জরিমানা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার মামলায় ৫৩ কোটি ১০ লাখ ডলার জরিমানা দিয়ে সমঝোতায় যেতে রাজি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংক। দেশটির সবচেয়ে বড় এ ব্যাংকটি জানিয়েছে, গত আগস্ট থেকে চলমান এক মামলায় অস্ট্রেলিয়ার নেনদেন প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ কেন্দ্র এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে তাদের। খবর রয়টার্স।
ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সাত হাজার ৫৮১ ডলারের ৫৩ হাজার ৫০০ সন্দেহমূলক লেনদেন হয়েছে ব্যাংকটিতে। কিন্তু ব্যাংকটি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করতে বিলম্ব করেছে। তবে অটোমেটেড টেলার মেশিনে (এটিএম) সফটয়ার সমস্যার কারণে এটা ঘটেছে বলে দাবি করে আসছিল তারা। এ নিয়ে গত বছরের আগস্টে মামলা হয় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। এতে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযুক্ত করা হয়।
কমনওয়েলথ ব্যাংকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একের পর এক কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। এ তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে গ্রাহকদের তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দুটি ম্যাগনেটিক ডাটা টেপ খুঁজে পাচ্ছে না। এ টেপগুলোয় গ্রাহকদের নাম, ঠিকানা ও অ্যাকাউন্ট নাম্বারসহ ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সম্পন্ন সব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচার কেন্দ্র এবিসির পক্ষ থেকে বলা এপ্রিলে বলা হয়েছে, গত বছর একটি তথ্যকেন্দ্র গুটিয়ে নেওয়ার সময় সাব-কন্ট্রাকটর ফুজি-জেরক্সের এ টেপগুলো ধ্বংস করে ফেলে। তবে এসব টেপ সত্যিকার অর্থেই ধ্বংস করা হয়েছে কিনা, সে
বিষয়ে প্রমাণ দেখানোর মতো কমনওয়েলথ
ব্যাংকের কাছে কোনো নথিপত্র নেই। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, টেপগুলোয় কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড, পিন বা অন্য কোনো
তথ্য নেই, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য জালিয়াতিতে ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিস্ময়কর ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এত তথ্য কীভাবে এ উপায়ে হারিয়ে যায়, তা কল্পনাও করা যায় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি বা বেসরকারি খাত সব ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।