সম্পাদকীয়

কমলনগরের উদাহরণ ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে

মানুষ একাকী বাস করতে পারে না। নিজের প্রয়োজনেই মানুষ সমাজে বাস করে। একসময় স্থানীয় সমস্যা নিজেরাই সমাধান করত। রাষ্ট্রের দিকে চেয়ে থাকত না।  যেসব  সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা যেত না, সেগুলোর সমাধানে জনপ্রতিনিনিধির দ্বারস্থ হতো। কিন্তু একালে মানুষ বড়ই আত্মকেন্দ্রিক। সামাজিক বন্ধন আগের মতো সুদৃঢ় নয়।

‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গানে বাউল শাহ আবদুল করিম বলেছেন, ‘সমাজের বিবাদ ঘটিলে/পঞ্চায়েতের বলে/গরীব কাংগালে/বিচার পাইতাম। মানুষ ছিল সরল/ছিল ধর্ম বল। এখন সবাই পাগল/বড়লোক হইতাম।’ এখন সেদিন আর নেই। শিক্ষার্থীদের মনে গ্রামবাংলার ওই বন্ধন তুলে ধরে সামাজিকতাবোধে উদ্বুদ্ধ করতে এখন এ গীতিকবিতাকে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইতিহাস রোমন্থন করে আমরা অনেকটা অতীতের সেই সোনালি দিনের কথা মনে করি। সে ধরনের একটি দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ। স্বেচ্ছাশ্রমে তারা নির্মাণ করেছে ৬০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকো। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গতকালের শেয়ার বিজে।

খবরে বলা হয়, কমলনগর উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নে স্থানীয়দের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে ৬০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহানোর পরও সরকারি কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় যুবকরা ওই ইউনিয়নের জারিরদোনা খালের ওপর নির্মাণ করেন সাঁকোটি। স্থানীয় শতাধিক তরুণের উদ্যোগে গ্রামবাসীর দেওয়া বাঁশ, কাঠ ও টাকায় ২৭ দিনে এ সাঁকো নির্মাণ হয়। এতে ব্যয় হয়েছে সোয়া লাখ টাকা। স্থানীয়রা এটিকে বলছেন ‘স্বপ্নের সেতু’। চলাচলের জন্য বৃহস্পতিবার বিকালে সাঁকোটি উš§ুক্ত করা হয়।

ছয় বছর ধরে স্থানীয়রা সাঁকোর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহান। দীর্ঘদিন থেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটলেও নজরে আসেনি কারও। জনপ্রতিনিধির মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেরাই নিজেদের জন্য সাঁকো নির্মাণ করেন। সাধারণ মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের এ দৃষ্টান্ত আত্মনির্ভরতার চেষ্টারই উদাহরণ। তরুণদের কয়েকটি ক্লাব, যেমনÑকমলনগর স্টার ক্লাব, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদ, স্টুডেন্ট সংসদ ও জুনিয়র একতা সংঘের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। এখন ক্লাবে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজ চলে, সদস্যদের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ আঁতকে ওঠে। অথচ কমলনগরের এই ক্লাবগুলো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সাঁকোটি নির্মাণে ব্যয় হতো প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হওয়ায় এতে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এটি আরও উৎসাহিত করবে কমলনগরের সাধারণ মানুষ ও তরুণদের। যেসব তরুণ সমাজের প্রয়োজনে এভাবে এগিয়ে আসে, সে সমাজ শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে থাকতে পারে না।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..