প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কমলনগরে অত্যাধুনিক সমালয় পদ্ধতিতে ধান আবাদ শুরু

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৫০ একর জমিতে শুরু হয়েছে সমালয় পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ। এ পদ্ধতিতে কৃষক উৎপাদিত ধানের চারা যন্ত্রের মাধ্যমেই রোপণ করবে এবং কাটা শেষে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। এতে করে অল্প সময়ে স্বল্প খরচে কৃষক ধান আবাদ করতে পারবেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, এ পদ্ধতিতে শ্রমিক সংকট ছাড়াও নানা প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, কমবে উৎপাদন খরচও। গতকাল শনিবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার উত্তর চরলরেঞ্চ গ্রামে এ নতুন পদ্ধতিতে ধান আবাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসাইন আকন্দ।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন, কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম নুরুল আমিন।

এ সময় ডিসি বলেন, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদে কৃষকদের জেলা প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা করবে। চাষযোগ্য কোনো জমি খালি না রেখে আবাদ করার পরামর্শ দেন তিনি। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুরের উপপরিচালক ড. মো. জাকির হোসেন জানান, সমালয় পদ্ধতিতে ধান আবাদ করলে বিস্তীর্ণ জমিতে অল্প সময়ে একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে চাষাবাদের আওতায় আনা যাবে।  এতে ট্রে ও পলিথিনে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় বীজতলা। চারা হতে সময় নেয় সাত দিন। সেখান থেকেই বীজ নিয়ে বপন করা হয় ক্ষেতে।

চলতি বোরো মৌসুমে প্রাথমিকভাবে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ গ্রামে ৬০ জন কৃষকের ৫০ একর  জমিতে এমন সমালয় পদ্ধতিতে ধানের চাষাবাদ হচ্ছে বলে জানালেন এ কর্মকর্তা।

এ সময় সুবিধাভোগী কৃষক হারুন বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে মাটিতে ধানের চারা রোপণ করতে গিয়ে অনেক সময় মাটি ভেঙে গিয়ে বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু সমালয়ে সে রকম কোনো সম্ভাবনা নেই। অল্প সময়ে চাষাবাদ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানালেন এ কৃষক।