সারা বাংলা

কমলনগরে স্বেচ্ছাশ্রমে ৬০০ ফুট সাঁকো নির্মাণ

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নে স্থানীয়দের অর্থায়ন ও যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে ৬০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহানোর পরও সরকারি কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় যুবকরা ওই ইউনিয়নের জারিরদোনা খালের ওপর নির্মাণ করেন সাঁকোটি।

স্থানীয় শতাধিক যুবকের উদ্যোগে গ্রামবাসীর দেওয়া বাঁশ, কাঠ ও টাকায় ২৭ দিনে এ সাঁকো নির্মাণ হয়। এতে ব্যয় হয়েছে সোয়া লাখ টাকা। আর তাই স্থানীয়রা এটিকে বলছেন ‘স্বপ্নের সেতু’। চলাচলের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সেতুটি উš§ুক্ত করা হয়। এতে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে থাকা শত শত পরিবারের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সাঁকো উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন কমলনগর স্টার ক্লাবের সহসভাপতি মাকছুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলম রাজা।

পাটারির হাট ইউনিয়নের সুমন, কামাল, বারেক সর্দারসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, জারিরদোনা খাল ভেঙে চলাচলের একমাত্র বেড়িবাঁধটি বিলীন হয়ে গেছে। পাটারিরহাট উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ওপর দিয়ে পাটারিরহাট-খায়েরহাটে আসা-যাওয়া করত। খালপাড়ের ওই বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। ছয় বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহান। দীর্ঘদিন থেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটলেও নজরে আসেনি কারও। উপায় না পেয়ে নিজেরাই নিজেদের চলাচলের জন্য সাঁকো নির্মাণ করেন।

এদিকে চলাচলের রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারতেন না। শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষা এলেই গৃহবন্দি হয়ে পড়তেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। কেউ অসুখে পড়লে রোগীকে হাসপাতালে আনা-নেওয়া কষ্টসাধ্য ছিল। এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে কমলনগর স্টার ক্লাব, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদ, স্টুডেন্ট সংসদ ও জুনিয়র একতা সংঘ নামের চারটি সংগঠন সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরে তারা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে টাকা ও কাঠ-বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

উদ্যোক্তারা জানান, সাঁকোটি নির্মাণ করতে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। নিজেরা স্বেচ্ছায় শ্রম না দিলে এটির নির্মাণে ব্যয় হতো প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

সর্বশেষ..