সম্পাদকীয়

কমলাপুর আইসিডি স্থানান্তরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক

এককভাবে সড়কপথের চাপ কমাতে ও সেবার মান বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরসংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে কমলাপুর আইসিডি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশের আমদানি-রপ্তানির পরিধি, ঢাকা শহরের জনঘনত্ব ও কমলাপুর রেলস্টেশনের চাপ বাড়লেও আইসিডির সক্ষমতা বাড়েনি। তাই প্রায় এক দশক আগে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র থেকে আইসিডি গাজীপুরের ধীরাশ্রমে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে এটি চালুর কথা থাকলেও কোনো অগ্রগতি নেই। প্রক্ষেপিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অস্বস্তিবোধ করছে। এজন্য এনবিআরকে চিঠি দিয়ে তারা জানায়, আইসিডি স্থানান্তরের কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। রেলওয়ের সঙ্গে এনবিআরের যোগাযোগেও রয়েছে ঘাটতি। এমনকি মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু ও মাল্টিমোডাল কম্যুনিকেশন হাব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে এখনই আইসিডি স্থানান্তরের কার্যক্রমে গতি না পেলে এই কাস্টমসের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সক্ষমতা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং রাজধানী শহরেও তার ঋণাত্মক প্রভাব বাড়তে থাকবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।

প্রতি বছরই এ কাস্টম হাউসের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে থাকছে। সারা দেশের আমদানি-রপ্তানির ক্রমবর্ধমান চিত্র দেখলেও কমলাপুর আইসিডির গুরুত্ব ও কার্যক্রমের বাড়ন্ত দশা অনুমান করা যায়। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে গুরুত্বপূর্ণ ঘনবসতি ও ব্যস্ততম এলাকার এ প্রধানতম রেলস্টেশনটি যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় এ অঞ্চলে শিগগিরই ‘মাল্টিমোডাল কম্যুনিকেশন হাব’ গঠনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। মেট্রোরেলের লাইনের কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশের কার্যক্রমও চলমান। এই চতুর্মুখী চাপসহিষ্ণু সক্ষমতা আইসিডি কোনোভাবেই অর্জন করতে পারবে না। কেননা এরই মধ্যে জায়গাস্বল্পতা ও দিনের বেলা ট্রাক-ভ্যানে যানচলাচলের নিষেধাজ্ঞার কারণে আইসিডির নিরাপত্তা ও সক্ষমতা আশঙ্কার মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতেও আইসিডি স্থানান্তর বিষয়ে রেলওয়ে ও কাস্টমসের মধ্যে তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও কাজের অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রকাশিত হয়।

এখনই যদি আইসিডি স্থানান্তর সম্ভব না হয়, তবে এ অঞ্চলের শিল্প, বিপণনসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কার্যক্রমে ঋনাত্মক প্রভাব পড়বে, কেননা এটি স্থানান্তরে ছয় থেকে সাত বছর লেগে যেতে পারে। তাছাড়া নতুন ও আধুনিক একটি আইসিডি প্রতিষ্ঠায় রেলওয়ে যদি এনবিআরের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখে, তবে তা কাস্টমসের চাহিদা মেটানোর জন্য যুগোপযোগী হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাই নতুন আইসিডির প্রয়োজনীয়তা ও আইসিডি স্থানান্তরের দীর্ঘ কার্যক্রমের বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর যাবতীয় কার্যক্রমে যতটা সম্ভব গুরুত্ব দেবে এবং গতি বৃদ্ধির ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..