প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কম খরচে বেশি মুনাফার আশায় চাষির মুখে হাসি

প্রতিনিধি, গাজীপুর: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষা ফুল। দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। সরিষা ফুলের ম-ম গন্ধ চারদিকে। সুন্দর বীজও আসতে শুরু করেছে। এতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। লাভের আশায় তাদের মুখে এখন হাসি। প্রতিটি মাঠে সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো। আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠবে সরিষা। কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল এই ফসলের চাষ করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে রবি সরিষা আবাদ করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উন্নত জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। স্বল্প সময়, কম খরচ ও কম পরিশ্রমে এ ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। পরে সরিষার জমিতে কম খরচে বোরো আবাদ করেন চাষিরা।

অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যার কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষার উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং গত কয়েক বছর ধরে বাজারে সরিষার ভালো দাম থাকায় চাষিরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। যদি অনুকূল আবহাওয়া থাকে তাহলে সরিষার ফলন ধানের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। তারা সরিষা ঘরে তুলেই ধান চাষের জন্য জমি তৈরি করতে শুরু করবেন। জমি থেকে পাকা সরিষা সংগ্রহ করতে পারলেই কৃষকদের চিন্তা দূর হবে।

বাহাদুর গ্রামের কৃষক জামান ভূঁইয়া জানান, তিন বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। আবাদও ভালো হয়েছে আর কিছু দিন পর ফসল ঘরে উঠবে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় সরিষা ক্ষেতের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তারপরও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ১ হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে সার ও বীজ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।