দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কম রপ্তানির মাধ্যমে জালিয়াতি বাংলা ফুড অ্যান্ড বেভারেজের

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: বাংলা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে রপ্তানির আড়ালে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণার পাশাপাশি ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে কম পণ্য পাঠিয়ে এ জালিয়াতির অপচেষ্টা করে। মূলত রপ্তানি চালানের অনুকূলে সরকার ঘোষিত নগদ প্রণোদনার অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা থেকেই এমনটি করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি চালান জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়ার আমদানিকারকের কাছে ফুড স্টাফ ঘোষণায় ৫৭২ কার্টনে ১০ হাজার ৮৭৬ কেজি পণ্য রপ্তানির ঘোষণা দেয়। বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১৬৫ কার্টনে ৫৪৩ কেজি পণ্য দিয়ে কনটেইনার পূর্ণ করে, যা ঘোষিত পণ্য থেকে ১০ হাজার ৩৩২ কেজি কম।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখা সূত্রে জানা যায়, পণ্য চলানটির বিপরীতে গোপন সংবাদ থাকায় রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে এনএসআই, ডিজিএফআই, সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন ও ইস্টার্ন লজিস্টিকস ডিপোর প্রতিনিধি এবং ডিপো কাস্টমস কর্মকর্তা ও এআইআর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কনটেইনারের সিল কেটে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এ সময় রপ্তানিকারকের ঘোষিত পণ্যের চেয়ে কম পণ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে এআইআর শাখার এক রাজস্ব কর্র্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, কনটেইনারের সম্মুখভাগে সুসজ্জিত কার্টন দেখে বোঝার উপায় ছিল না কনটেইনারের পেছনের অংশ খালি, যা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব নয়।

এদিকে চট্টগ্রাম উত্তর পতেঙ্গার বেসরকারি ইস্টার্ন লজিস্টিকস ডিপোর ভেরিফাইড গ্রস মেস অব কনটেইনারের (ভিজিএম) প্রদত্ত তথ্যেও দেখা যায়, কনটেইনারসহ পণ্যের ওজন ১৩ হাজার ৬২০ কেজি। এর মধ্যে কনটেইনারের ওজন দুই হাজার ২২০ কেজি। অর্থাৎ পণ্যের ওজন ১১ হাজার ৪২০ কেজি, যা রপ্তানিকারকের ঘোষণার সঙ্গে মিল রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কায়িক পরীক্ষার সময় কনটেইনার হ্যান্ডলিং ভেহিক্যালে কনটেইনারসহ পণ্যে গ্রস ওজন পাওয়া যায় মাত্র দুই হাজার ৯৪ কেজি। এর মধ্যে কনটেইনারের ওজন পাওয়া যায় দুই হাজার ২২০ কেজি, যা কনটেইনারের গায়ে মুদ্রিত রয়েছে। অর্থাৎ রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য স্টাফিং করা হয়েছে মাত্র ৭২০ কেজি। একই সঙ্গে এই চালানের কাগজপত্রে বেসরকারি অফ ডকটির প্রতিনিধি ৫৭২ কার্টন পণ্য গ্রহণ করেছে বলে স্বাক্ষর রয়েছে, যদিও কায়িক পরীক্ষায় ৫৭২ কার্টনের পরিবর্তে মাত্র ১৬৫ কার্টন পণ্য পাওয়া যায়। এতে বোঝা যায়, রপ্তানিকারকের সঙ্গে জালিয়াতিতে ডিপোর প্রতিনিধি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জড়িত রয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রেজাউল শেয়ার বিজকে বলেন, চালানটি কায়িক পরীক্ষায় জন্য সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। এছাড়া ডিপো প্রতিনিধিও ভুল তথ্যের বৈধতা দিয়েছে। এদিকে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে একই প্রকৃতির ৫২টি চালান রপ্তানি করেছে, যার শুল্কায়ন মূল্য ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এই রপ্তানিকারক এক্সপো ফ্রমে ভুল তথ্য প্রদান করায় ফরেন্স এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭ অনুযায়ী অপরাধ করেছে। এই চালানগুলোর অনুকূলে বাংলাদেশ সরকার ২০ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। তাই বাংলা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ৫২টি পণ্য চালানের বিপরীতে গৃহীত প্রণোদনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ বরাবর পত্র দেয়া হবে। একই সঙ্গে ৫২টি পণ্য চালানের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন অব মালয়েশিয়া থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগকে অনুরোধ করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..