প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কয়লা আমদানিতে করছাড়ে টিআইবির প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে মূসক (ভ্যাট) ও অগ্রিম কর (এটি) ছাড়কে অপরিণামদর্শী বলছে দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে মূসক ও এটি ছাড়ের পুরো সুফল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়লা আমদানিতে ১০ শতাংশ মূসক ও পাঁচ শতাংশ এটি ছাড় দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মূলত সরকারি-বেসরকারি খাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য শর্তসাপেক্ষে কয়লা আমদানিতে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানোর যুক্তিতে এ সুবিধাটি দেওয়া হয়েছে বলা হলেও তার সুফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

পরিবেশবিধ্বংসী হওয়ার পরও সরকার যেভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমাগতভাবে ঝুঁকে পড়ছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কয়লা থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার যুক্তিতে যেভাবে এর ওপর নির্ভরশীলতা সৃষ্টি

করা হচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় কয়লা আমদানিতে মূসক ছাড়ের সবশেষ এই সিদ্ধান্ত। এটি সরকারের জাতীয় অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও প্যারিস চুক্তির পরিপন্থি।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি সরকারের অঙ্গীকার আছে ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ১০ শতাংশ, অথচ বর্তমানে এ হার চার শতাংশেরও কম। একই সঙ্গে সরকার অঙ্গীকার করেছিল যে, ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। কিন্তু তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় কর সুবিধাসহ তেমন কোনো কৌশলগত ও  কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর দৈনিক শেয়ার বিজে ‘কয়লা আমদানিতে ভ্যাট-অগ্রিম কর অব্যাহতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সংবাদের বরাত দিয়ে টিআইবি জানায়, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী মূসক ও আগাম করছাড়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচ কমানোর যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছাবে সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ড. জামান বলেন, মূসক ছাড়ের ফলে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমে আসার সুফল কতটা গ্রাহকরা পাবেন, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। কেননা ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও সরকার একই ধরনের করছাড় দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সুবিধাটি পকেটে পুরেছেন এসব কেন্দ্রের বেসরকারি উদ্যোক্তারা। তাছাড়া সরকার যখন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য মরিয়া, তখন এরকম পরিবেশবিধ্বংসী খাতে কীভাবে এত বড় ধরনের মূসক ছাড় গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তা বোধগম্য নয়। এমন সুবিধা যদি দিতেই হয় তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যের বিদ্যুৎ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হবে, এরূপ শর্তসাপেক্ষে কার্যকর বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সারা পৃথিবী যখন পরিবেশবিধ্বংসী কয়লানির্ভর জ্বালানি থেকে সরে আসতে কার্বন কর বসাচ্ছে, সেখানে কয়লা আমদানিতে করছাড় জলবায়ু ঝুঁকির মুখে শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশের জন্য পশ্চাদ্মুখী ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশকে কয়লা উৎপাদন কেন্দ্রের ভাগাড়ে পরিণত করার স্বার্থান্বেষী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহল লাভবান হবে। অন্যদিকে নিরুৎসাহিত হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার। আমরা এরূপ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..