বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

করপোরেট করে প্রণোদনা দিলে অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে

ঢাকা চেম্বারের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিযোগী ও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে করপোরেট কর তুলনামূলক বেশি। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আনতে করপোরেট কর কমিয়ে আনা প্রয়োজন। করোনায় ইংল্যান্ড করপোরেট করে প্রণোদনা দিয়েছে। এতে কোম্পানিগুলোর পক্ষে রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাকে প্রণোদনার অর্থ দিয়েছে রাষ্ট্র। এটি বাংলাদেশও অনুসরণ করতে পারে।

শিল্প রক্ষা ও করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এমন প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নবনিযুক্ত সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। গতকাল মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এমন প্রস্তাব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সমসাময়িক অর্থনীতিবিষয়ক ১১টি এজেন্ডা ও ২০২১ সালে ডিসিসিআইয়ের এক বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বলা হয়, করোনা মহামারিতে শিল্প খাত বিশেষ করে এসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য প্রণোদনার অর্থ বরাদ্দ রাখলেও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৫৪ শতাংশ অর্থ ছাড় হয়েছে এসএমই খাতে। আমরা চাই এসএমই ব্যাংক করা হোক। এছাড়া এসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট করা যেতে পারে এ খাতের উন্নয়নে। এসএমই খাতই জিডিপিতে ২৫ শতাংশ অবদান রাখে।

করপোরেট করের বিষয়ে রিজওয়ান রাহমান বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ২৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৮ শতাংশ, ভারতে ২২ শতাংশ করপোরেট কর নেয়া হয়। এশিয়ার দেশগুলোয় করপোরেট করের গড় হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা বৈশ্বিকভাবে ২৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এখনও করপোরেট কর হার হচ্ছে ৩২ দশমিক পাঁচ শতাংশ, যা এখনও সর্বোচ্চ।

করোনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে করপোরেট করে প্রণোদনা দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রণোদনার অর্থ কোম্পানির পক্ষে রাষ্ট্র পরিশোধ করতে পারে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেরও (এনবিআর) কর আদায় নিশ্চিত হবে। কোম্পানিরও সুবিধা হবে। ইংল্যান্ড এটি করেছে। বাংলাদেশও করতে পারে। সাময়িক সময়ের জন্য এটি বাংলাদেশের করপোরেট খাতের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।

রিজওয়ান রাহমান বলেন, বিদেশি কোম্পানির মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই হারে সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। এতে স্থানীয় শিল্পও উপকৃত হবে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি জানান, শিল্প খাতের চাহিদামাফিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে যৌথভাবে কাজ করবে ডিসিসিআই। ডিসিসিআই ইতোমধ্যে ১২টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এতে ডিসিসিআই বাজার অনুযায়ী চাহিদা দেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। সেই মোতাবেক কারিকুলাম তৈরি করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিও রাতারাতি পরিবর্তন হবে না।

জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগও (এফডিআই) তুলনামূলক কম। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এফডিআই জিডিপির এক দশমিক ৭৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় দুই দশমিক ২৩ শতাংশ, থাইল্যান্ডে এক দশমিক ১৩ শতাংশ ও ভিয়েতনামে ছয় দশমিক ১৫ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে মাত্র শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ।

রপ্তানির গন্তব্য দেশের আওতা বৃদ্ধির বিষয়ে রিজওয়ান রাহমান বলেন, আমাদের উৎপাদিত পণ্যের বেশিরভাগই রপ্তানি হয় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয়। রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ এসব দেশে যায়। দেশগুলো করোনা মোকাবিলায় বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা দেখা দেবে। এজন্য বাংলাদেশের উচিত এশিয়ার দেশগুলোর বাজার ধরা। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত হিসেবে আমাদের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এনকেএ মবিন, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, পরিচালক মো. শাহিদ হোসেন, গোলাম জিলানী, হোসেন এ সিকদার ও নাসিরউদ্দিন এ. ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..