এসএমই

করলা চাষে স্বাবলম্বী ইসমাইল

বাবার অভাবের সংসারে বড় হয়েছেন ইসমাইল হোসেন। উপরন্তু পরিবারের বড় সন্তান তিনি। অভাবের তাড়নায় পড়ালেখাও ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারেননি। বসতভিটা একমাত্র সম্বল তাদের। তেমন আবাদি জমিও নেই। নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ৬নং উত্তর জাহানপুর ইউনিয়নের মৃত ইয়াদ আলী মণ্ডলের বড় ছেলে ইসমাইল হোসেন বাবার হাত ধরে জমি চাষে অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষ হয়ে ওঠেন। অর্থের অভাবে গৃহস্থালি পরিবারে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করাটাকে প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি চার-পাঁচ বছর ধরে নিজ গ্রামের পরিচিত মামুন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ শতাংশ আবাদি জমি বর্গা নিয়ে বছরের বিভিন্ন সময় চাষ করতেন। এতে সফলও হন বেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাহানপুর স্কুলের পেছনে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহে ইসমাইল ৩০ শতাংশ জমির ওপর সারিবদ্ধভাবে বাঁশের মাচায় লাগিয়েছেন কয়েক হাজার করলা গাছ। গাছের ডগায় মৃদু হাওয়ায় যেন দুলছে তার স্বপ্ন। এখানেই তিনি জীবিকা অর্জনের অনাবিল সুখ-সমৃদ্ধির গন্ধ খুঁজে পান। এ কারণে ৫৫ বছর বয়সেও তিনি একচুলও পিছপা হননি। সফলতার সঙ্গে একের পর এক কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, পরপর দুবছর ধানের দাম না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। এখন আমি অফ সিজনে করলা, শসা, তরমুজ ও ভুট্টা চাষ করে সে ক্ষতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি।
ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, ভাদ্র থেকে কার্তিকÑএ তিন মাসে প্রতি সপ্তাহে একবার করে ফলন পাওয়া যায়। শ্রমিক, সার, বাঁশের খুঁটিসহ সপ্তাহে তিন-চারদিন জৈবসার ব্যবহার করে বছরে প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমানে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে ৩০ শতাংশ জমি থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা আয় করা যায়।
তিনি মনে করেন, সরকার আর্থিক সহযোগিতা করলে এখানের বেকার যুবকরা কৃষিনির্ভর উপজেলা গড়ে তুলতে পারবে।

এ.কে. সাজু, নওগাঁ

সর্বশেষ..