ধারাবাহিক

করারোপ ও বিনিয়োগ দর্শন

মিজানুর রহমান শেলী: আমার মৃত্যুর পরে ব্যবস্থাপনাগত কাঠামো প্রস্তুতের ব্যাপারে আমি একটি পরামর্শ দিয়েছি। আমার পরিবারে যে কোনো ব্যক্তি এখানে এসে ব্যবসার চেয়ারে বসে যেতে পারে না। এমনকি আমার স্ত্রী যদি আমার পরে বেঁচে থাকেন, তবে সে আমার এই সম্পদের উত্তরাধিকার হবেন, কিন্তু তিনি যদি অন্য কোথাও ঘর বাঁধেন তবে এখানে তার কোনো উত্তরাধিকার থাকে না। তবে যে ব্যক্তিই এখানে এসে বসুক না কেন তাকে অবশ্য কিছু নীতিমালা মেনে চলতে হবে এবং তাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতেই বসতে হবে। এই বার্কশায়ারের নীতি দর্শনই হবে তার নীতি দর্শন। আপনি কি ভাবছেন এ নীতিই আমাদের মেনে চলা উচিত? বস্তুত আমি তড়িঘড়ি করে একটি কাঠামো সাজিয়ে পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু আমার পরিবার এ ব্যাপারে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল আমার মৃত্যুর পরে কে কী করবেন। কে কোন উত্তরাধিকার লাভ করবেন, কাকে কোন কাজ দেওয়া হবে ইত্যাদি। আর আমার পরিবারে এই কথা কেবল বিশেষজনরাই এ তথ্যগুলো জানেন। এমনকি এই কাজ ও সম্পদের বণ্টন কোনো পদ্ধতি ও রীতিতে সম্পন্ন করা হবে সেটাও তারা খুব ভালোভাবে জানেন। তারা সবাই এখন বার্কশায়ারেই কাজ করছেন। এমনকি এই লোকগুলোর ওপর আমার রয়েছে পুরো মাত্রায় আত্মবিশ্বাস।
উত্তরাধিকার ইস্যুতে আমার যথেষ্ট মনোযোগ রয়েছে। আমি এটা ভুলে গিয়েছি বা এটা নিয়ে যে আমার কোনো আগ্রহ নেই তা কিন্তু নয়। এ ব্যাপারে আমার যথেষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমি অবশ্যই আমার পরিবারকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এখানে যার যে অবস্থান সেই অবস্থানে তাকে অধিষ্ঠিত করব।
যেহেতু বার্কশায়ারের সামগ্রিক স্টক হিসাব করলে রাষ্ট্রের যাবতীয় সম্পদের কাছাকাছি একটি অংশ হিসেবে ভাবা যায়। আর তাই এই বিপুল ধনভাণ্ডারের একটি অংশের মালিক হবে আমার স্ত্রী অথবা তা কোনো না কোনো রাষ্ট্রীয় কল্যাণে গড়া ফাউন্ডেশনে ব্যবহার করা হবে। আর এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চয় আমার মৃত্যুর পরে কোনো এক যথার্থ সময়ে নেওয়া হবে। তবে আমি আবারও আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই, যখনই আমি কোনো উত্তরাধিকার নিয়ে কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকি, তখন আমি খুব সতর্ক হয়ে যায়। আমি হেলায় ফেলায় তার কোনো জবাব দিই না। আমি জানি এটা কোনো সহজ ব্যাপার নয়। এটা নিয়ে খেয়ালি কোনো জবাব একটি বড় সংকট তৈরি করতে পারে। আবার একই সঙ্গে আপনাদের আমি এই বার্কশায়ারের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়েও একটি বিশদ জবাব দিতে চাই। এ জবাবটি এখন খুব সংক্ষেপেই বলব কিন্তু তা নিশ্চিত। আমি বলতে চাই, আমার মৃত্যুর পরে এই বার্কশায়ারের পরিচালনা কাঠামো ব্যবস্থাপনা দর্শন বা নীতিতে এলে কোনো পরিবর্তন আসাটা একেবারেই উচিত হবে না। আগের নিয়মকানুন বা কৌশল হয়তো কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু এর দর্শনগত অনুভূতি আর মূলনীতি বা ভিত্তির কোনো পরিবর্তন হবে না। যে কোনো কৌশলই গৃহীত হোক না কেন তা এই নীতি মেনে চলবে। নতুন কোনো নীতি দর্শনের মিশ্রণ ঘটলে তা বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি করবে। এই কথাটি আমি আমার পরবর্তীদের উদ্দেশ্যেই বলতে চাই। বিশেষত আমার পরে যেসব উত্তরাধিকার আমার পরিবার থেকে আসবে তারাও এই নীতি দর্শন মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন। এই ব্যাপারে আসলে তেমন কোনো সন্দেহ থাকে না। এমনকি যারা এখানে বসবেন বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি, তারাও ব্যাপারটি খুব ভালো করেই জানেন।
চলুন আমরা এবার একটি মর্মাহত অনুভূতি ভাগাভাগি করে নিই, এখানে এই পর্যায়ে আমি আরও একবার আরেকটি বিষয়ে নিশ্চিত করতে চাই: আমি কখনোই কোনোদিন অপেক্ষাকৃত ভালো অনুভব করতে পারিনি। আমি কেবল ভালোবেসেছি বার্কশায়ারের সঙ্গে দৌড়ে বেড়াতে। এটাই আমি চাই। এছাড়া আর কোনো কিছুই আমাকে শান্তি দেয় না। আমার আকাক্সক্ষা বড়ই বেয়াড়া, আমি চাই এই বার্কশায়ারের সঙ্গে আমার জীবনকে আরও দীর্ঘায়িত করে নিই। অনন্তকাল আমি যেন এই বার্কশায়ারের সঙ্গেই চলতে থাকি। মেথুসালেহ’র (নুহের দাদা) জীবন কালের (৯৬৯ বছর) নজিরকে আমি আসলে একটি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে চাই।
এখন কথা হলো এই সিদ্ধান্ত কি আমি একাই নিয়েছি? না এই সিদ্ধান্ত নিতে আমি আমার কাছের বন্ধু ও সহকর্মীদের সহায়তা পেয়েছি। এই সংক্ষিপ্ত সার চিন্তা ও সাংগঠনিক পরিকল্পনাটা পেতে আমি তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সিম্পোজিয়ামেরও আয়োজন করেছি। তারা আমাকে সর্বতভাবে সাহায্য করেছে। তার আমাকে যে সাহায্যখানি করেছে তা কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। এমনকি এই সাহায্যকে বাদ দিয়ে আমি হয়তো আসতেও পারতাম না। কেবল তাদের সাহায্যেই আমাদের সিদ্ধান্তটি যথার্থ হয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। লওই’র প্রতি আমি ওয়ারেন বাফেট কৃতজ্ঞতার শির নিচু করবই। আমি তার কাছে ঋণী। তার উদারতা, চেতনা, সময় ও বুদ্ধিজীবীর প্রতি আমি বিনীত। সবিনয়ে আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছি। তারা আমাকে বিভিন্ন প্রকল্পে গ্রহণ করেছেন।
তারা তাদের সাদর আমন্ত্রণে আমাকে মুগ্ধ করেছে। এমনকি আমার কাঁধে কোনো প্রকল্প তুলে দিয়ে তারা দায় ছেড়ে চলে যায়নি। বরং তারা আমার সঙ্গে দারুণভাবে কাজ করেছে। আমার সব ধরনের সফলতার পেছনে তাদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না।
আমি আমার লেখায় বিভিন্ন জায়গা চার্লি মার্গারের কথা স্মরণ করেছি। আমি আমার চিন্তার কথা বলেছি। আমার কাজের কথা বলেছি। আমার চিন্তা ও কাজে কোনো সময়ই চার্লি মাঙ্গারের অবদানকে বাদ রেখে যে এগোতে পারিনি সেটা সবখানেই বুঝিয়ে দিয়েছি। চার্লি আর আমার দৈতরথ যে কত শক্তিশালী ছিল, তা নিশ্চয় একটি ইতিহাস হতে পারে। আমি ও চার্লি কখনোই বেশি সময় এক জায়গায় বসে কাটাতে পারিনি। তবুও কীভাবে যেন আমাদের দুজনের মধ্যে কাজের কোনো সম্পর্কহীনতা ছিল না। কেবল চিন্তা ও পরিকল্পনার জায়গায় যে কোনো প্রকল্পের পরিচালনা ভার আমাদের ছিল। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। অথচ আমরা উভয়ে উভয়ের চেয়ে অনেক দূরে অবস্থান করতাম। তিনি কেবল আমাদের এই বার্কশায়ারের জন্য সেবাই দিয়ে গিয়েছেন তা বলা যাবে না। বরং তিনি ছিলেন আমাদের একজন প্যানেল মাস্টার। আমাদের যে কোনো সিম্পোজিয়ামে তিনি সর্বত্র অংশ নিয়েছেন। আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ছিলেন ওয়েস্কো ফিন্যান্সিয়াল করপোরেশনের পক্ষে। যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই চেয়ারম্যান যদি কোনো চিঠি ইস্যু করতে তবে তার দুটি কপি আসত। একটি চার্লি মাঙ্গারের কাছে আরেকটি আসত আমার কাছে। এমনকি আরও খোলাসা করে বলতে চাই যদি কখনও কোনোদিন কোনো চিঠি কেবলমাত্র চার্লির কাছেই আসত, তবে তিনি তার একটি প্রস্তুত করতেন। আর বুঝতেই পারছেন সেই কপিটা কিন্তু আমার কাছেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন। এভাবে আমরা দূরে থেকে সর্বদা এক ছিলাম আমাদের চিন্তায় ও আমাদের কাজে।
আসলে বর্ণনার এই পর্যায়ে এসে চার্লি মাঙ্গারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার কথাটি নতুন করে ব্যক্ত করার কি কোনো প্রয়োজন রয়েছে! আসলে আমি চার্লি মাঙ্গারের প্রতি গভীরভাবে ঋণী।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম।
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..