সম্পাদকীয়

করের অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক

প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, তেমনি রাজস্ব ছাড়াও দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। রাজস্বই রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস। এ অর্থেই রাষ্ট্রের ব্যয় নির্বাহ হয়। তাই রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হয়।

শেয়ার বিজে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া আয়কর মেলার প্রথম দিনেই আয়কর আদায় হয়েছে ৩২৩ কোটি টাকা। এটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। এ করমেলা আগের বছরের অর্জনকে ছাড়িয়ে যাবে, এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

রাজস্ব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নতুন করদাতা বাড়ানোর প্রতি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কর থেকে প্রাপ্ত অর্থের সদ্ব্যবহার, সুশাসন ও স্বচ্ছতা থাকলেই সাধারণ মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে। উন্নত দেশগুলোয় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই আয়কর দেয় করযোগ্য ব্যক্তিরা। কারণ ওই সব দেশের নাগরিকরা যেমন রাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধা পান, তেমনি জনগণের দেওয়া করে অর্থের ব্যবহার কীভাবে হয়, সেটিও দৃশ্যমান।

আয়কর নিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। কর দিয়েও উপযুক্ত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্যে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দেন, মোবাইল ফোনে কথা বলতে মূসক দেন; এটি দিতে হয় বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিলের সঙ্গেও। বার্ষিক পাঁচ লাখ টাকা আয় করা ব্যক্তি ছোট সংসারের ভরণপোষণে গলদঘর্ম হচ্ছেন, তাকে করজালের আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে। অথচ বছরে পাঁচ কোটি টাকার বেশি আয়করই ফাঁকি দেন, এমন ব্যক্তিও রয়েছেন সমাজে। দামের ঊর্ধ্বগতিতে কেউ নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, আবার কেউ বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ না করেও রাষ্ট্রের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আবার দুর্নীতি-অনিয়ম ও অকারণে দীর্ঘসূত্রতার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অর্থ লোপাট হচ্ছে। এসব বন্ধ করা গেলে নাগরিকরা কর দিতে উৎসাহ পাবেন।

আয়করবৈষম্যও বন্ধ করতে হবে। সরকারি-আধা সরকারি কর্মচারীরা সরকার প্রদত্ত নানা সুবিধা পান; যেমন পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণ ও কম সুদে গৃহঋণ। নামমাত্র দামে গাড়ির ব্যবস্থাও হয়েছে; কিন্তু দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি যাদের বার্ষিক আয়, তাদের অবশ্যই কর দিতে হবে, যদিও ন্যূনতম হারে।

করব্যবস্থা জনবান্ধব এবং এর ব্যবস্থাপনা দুর্নীতিমুক্ত হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে জনগণের দেওয়া করের অপব্যবহার ও লোপাট হবে না, করযোগ্য ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই কর দেবেন বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..