দিনের খবর সারা বাংলা

করোনাকালেও মধ্যপাড়া পাথর খনিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

মো. রজব আলী, দিনাজপুর: দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি করোনাকালেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ফলে আবারও টানা লাভের দিকে হাঁটছে খনিটি।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া খনিটি থেকে ২০০৭ সালে পাথর উৎপাদন শুরু হয়। তখন খনিটির দক্ষিণ কোরীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামনাম কনসোডিয়াম চাহিদা অনুযায়ী পাথর উত্তোলন করতে ব্যর্থ হয়। এতে করে কয়েক বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ওপরে লোকসান হয়। এ কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সম্ভাবনাময় খনিটির ভবিষ্যৎ।

খনিটির বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেলারুশভিত্তিক জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোডিয়াম জিটিসি ২০১৪ সালে খনিটির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিন শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু করে। ধীরে ধীরে লোকসানের থেকে বেরিয়ে আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে লাভের মুখ দেখা শুরু করে।

খনিটির মহাব্যবস্থাপক আবু তালহা ফরাজি বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ছিল পাথর উত্তোলন। আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খনি থেকে পাথর উত্তোলন হয়েছে ছয় লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন, যা প্রতিদিনের গড় উৎপাদন পাঁচ হাজার টনের বেশি। তাই টানা তৃতীয়বারের মতো লাভের দিকে হাঁটছে খনিটি। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মতো ২০১৯-২০ অর্থবছরেও খনিটি লাভ করেছে বলে তিনি জানান।

মহাব্যবস্থাপক আরও বলেন, বিশ্বের সব জায়গায় মাটির উপরিভাগ থেকে পাথর আহরণ করা হলেও একমাত্র মাধ্যপাড়া পাথর খনির ভূ-গর্ভের তলদেশ থেকে আগ্নেয়গিরিজাত শিলা উৎপাদন করা হয়। এ ধরনের শিলা অন্য যেকোনো শিলা থেকে শক্তিশালী ও উন্নত। এই কারণে তিনি দেশের চলমান মেগা প্রকল্পে মধ্যপাড়ার শিলা ব্যবহারের আহ্বান জানান।

খনিটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খনিতে দেশি-বিদেশি ২০০ কর্মকর্তা ও সাড়ে ৭০০ শ্রমিক দিন ও রাতের তিন শিফটে কাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন পাথর বহন ও ক্রেতাদের কারণে মুখর থাকে খনি ও এর আশপাশ। এখানে খনিকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান গড়ে উঠেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত ট্রাক পাথর নেয়ার জন্য খনিতে আসে। এসব যানে পাথর লোড-আনলোড করে কয়েকশ’ শ্রমিক। এতে করে এখানকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক স্থানীয় অধিবাসী জানান, দেশের এ সম্ভাবনাময় খনিটির উৎপাদনের চাকা সচল থাকলে তাদের জীবিকা ও অর্থনীতি সচল থাকবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..