প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

করোনাকালে আয় কমল যমুনা ব্যাংকের

শেখ আবু তালেব: চলতি বছরের ছয় মাসে ঋণ বিতরণে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বেসরকারি খাতের যমুনা ব্যাংকের। কমেছে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো। এর ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির আয় কমেছে পূর্ববর্তী বছরের আলোচিত সময়ের তুলনায়। এজন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, করোনাকালে ঋণ চাহিদা কম থাকাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এমন তথ্য। গত জুন শেষে যমুনা ব্যাংকের আমানতের স্থিতি হয় ১৭ হাজার ৯৮২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ২০ হাজার ২৫১ কোটি। ছয় মাসের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ কমেছে দুই হাজার ২৬৯ কোটি টাকা।

গত বছরের জানুয়ারি-জুনের তুলনায় চলতি বছরের আলোচিত সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয় দুই দশমিক ২৪ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যমুনা ব্যাংকের আমানতের সঙ্গে কমেছে ঋণের পরিমাণও। গত জুন শেষে ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বরে ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৭২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

গত জুন শেষে একই অবস্থা দেখা গেছে, যমুনা ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে। এ খাতের আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়েছে। জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমানত স্থিতি হয় ৪১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বিনিয়োগ স্থিতি দাঁড়ায় ৪৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আমানত প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্মক চার দশমিক ৭৯ শতাংশ। বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্মক আট দশমিক ২৫ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ ও আমানত কমে যাওয়ায় কমেছে ব্যাংকটির নগদ অর্থের প্রবাহ। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ডিএসইর দেওয়া যমুনা ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল-জুন সময়ে ব্যাংকটির অনিরীক্ষিত হিসাবে ইপিএস হয় শূন্য দশমিক ৬৫ টাকা। গত বছরের এই সময়ে যা ছিল শূন্য দশমিক ৯৮ টাকা। কিন্তু গত জানুয়ারি-জুন শেষে ইপিএস হয় দুই দশমিক শূন্য সাত টাকা। গত বছরের এই সময়ে যা ছিল এক দশমিক ৬৮ টাকা। অথচ গত ডিসেম্বর শেষে ইপিএস ছিল তিন দশমিক ৪৮ টাকা।

চলতি বছরের আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো হয় এক দশমিক ৪৩ টাকা। গত বছরের প্রথম ষাণ¥াসিকে ছিল এক দশমিক ৭৫ টাকা। জানা গেছে, বিনিয়োগ থেকে আয় কমলেও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে ব্যাংকটি আয় বাড়াতে উদ্যোগী হয়। আমদানি ও রপ্তানি আয়ের কমিশনের সঙ্গে পেয়েছে সেবা চার্জ। এতেই মুনাফা কিছুটা সমন্বয় করতে পেরেছে। ফলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিত ইপিএস বৃদ্ধি পায়।

ব্যাংকের আর্থিক এ চিত্রের বিষয়ে যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘করোনাকালে মূলত ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল না। ঋণ চাহিদা কম থাকায় এ খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আবার ৯ শতাংশ সুদ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের আয় কিছুটা কমেছে। কিন্তু আমাদের ট্রেডিং থেকে ভালো আয় হয়েছে। এজন্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস (শেয়ারপ্রতি আয়) কমায় মুনাফা কিছুটা কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছরের ষাণসিক হিসেবে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে গতবারের তুলনায়। কারণ হচ্ছে, আমরা কম সুদের সরকারি বন্ড থেকে থেকে ডিপোজিট পেয়েছি দুই হাজার কোটি টাকার। এজন্য উচ্চ সুদের কিছু আমানত ছেড়ে দিয়েছি। বছরের বাকি সময়ে আশা করছি, মুনাফা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

ডিএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ব্যাংকটির শেয়ার হাতবদল হয় ১৭ টাকা ১০ পয়সায়। গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মুনাফা করে ২৬০ কোটি টাকা।