দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

করোনাকালে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কভিড-১৯-এর মধ্যেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়ল। বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এ বন্দর ৩০ লাখ চার হাজার ১৪২ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। আগের অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ একক। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৮৫ হাজার ১১৯ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে।

যদিও গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্থবির ছিল শিল্প ও বাণিজ্য কার্যক্রম। এরপরও জাহাজ ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে। আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। গত অর্থবছর এ বন্দর দিয়ে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৬ টিইইউএস আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার এবং ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৬ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে তুলনায় গত অর্থবছর কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে দুই দশমিক ৯২ শতাংশ।

এদিকে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের এ বন্দরে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আমদানি পণ্যবাহী কার্গো ছিল ৯ কোটি ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ৩১৮ মেট্রিক টন কার্গো এবং রপ্তানি পণ্যবাহী কার্গো ছিল মাত্র ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৪ মেট্রিক টন। আগের অর্থবছর এ বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয় ৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ১২ মাসের ব্যবধানে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৩৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১৭ মেট্রিক টন। এ হিসেবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক ৩৮ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৯-২০ অর্থবছরের কনটেইনার ও কার্গোবাহী মোট জাহাজ আসে তিন হাজার ৭৬৪টি, যা আগের অর্থবছরের আসে তিন হাজার ৬৯৯টি। অর্থাৎ এক বছরের জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়েছে মাত্র ৬৫টি।

আরও জানা যায়, ২০২০ সালের জুলাই মাসে এই বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭২ হাজার একক কনটেইনার; যা বিগত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্য দিয়েই করোনার আর্থিক ধকল কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। শুধু পণ্য রপ্তানিই নয়; আমদানিতেও করোনার ধস কাটিয়ে উঠছে; যদিও আমদানি পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘গত মার্চ পর্যন্ত আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় সাত শতাংশ। পরে কভিড-১৯-এর কারণে প্রবৃদ্ধি অনেক কমেছিল। এ সময়ে কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছিল। আবার এ জট কাটানোর জন্য বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলো কনটেইনার রাখা হয়। তা না হলে আমাদের প্রায় ৩২ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হতো। এছাড়া আমাদের সক্ষমতা আগের চেয়েও অনেক বেড়েছে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরে জুলাই মাসে এক লাখ চার হাজার ৪৯৯ একক আমদানি পণ্য ওঠানামা হয়েছে। আর রপ্তানি পণ্য ওঠানামা হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার একক। এই পণ্য ওঠানামার হিসাবের মধ্যে খালি কনটেইনারও যুক্ত আছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..