দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

করোনাকালে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা চরমে

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বিশ্বজুড়ে চলছে মরণঘাতী ভাইরাস করোনার তাণ্ডব। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। করোনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এর জের ধরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো দীর্ঘ ৬৬ দিন বন্ধ ছিল পুঁজিবাজার। এ সময়ে বিনিয়োগকারীসহ বাজারসংশ্লিষ্টদের অনেকেরই দাবি ছিল পুঁজিবাজার খুলে দেওয়ার। তাদের ধারণা ছিল বাজার খুলে দিলে এর সার্বিক পরিস্থিতি ভালো হবে এবং বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরে আসবেন।

যদিও বাজার খোলার পর এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। করোনার আগে দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারের অবস্থা ভালো না থাকায় এমনিতেই বিনিয়োগে অনাস্থা চলছিল। বর্তমানে করোনা ইস্যুতে সে অনাস্থা আরও চরমে পৌঁছেছে, যার জের ধরে লেনদেন নেমে গেছে ১৩ বছর আগের অবস্থানে। সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট। অথচ এ সময়ের মধ্যে ডিএসইতে সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। সর্বোচ্চ এ লেনদেন হয় ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর।

বর্তমানে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তলানিতে। তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে। মহামারি আরও দীর্ঘদিন থাকতে পারে এ আতঙ্কে তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন না। উল্টো বাজার থেকে বিও অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ উত্তোলন করে নিচ্ছেন। ফলে বাজারও স্বরূপে ফিরতে পারছে না।

এদিকে অনাস্থার কারণে লেনদেন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কমছে সূচক। করোনার সময়ে মোট পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক চার হাজার আট পয়েন্ট থেকে তিন হাজার ৯৫৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে ফ্লোর প্রাইসে শেয়ারদর হিসাব করার কারণে অধিকাংশ শেয়ারদর কমতে দেখা যাচ্ছে না। ফ্লোর প্রাইস বাদ দিয়ে হিসাব করলে শেয়ারদর কমার পাশাপাশি সূচক আশঙ্কাজনকহারে হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা ছিল।

তবে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, পুঁজিবাজারের এমন দশা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এজন্য তারা বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাকেই দায়ী করেন। মূলত তাদের এ মানসিকতার কারণে বাজার তার স্বরূপে ফিরতে পারছে না। বিনিয়োগকারীরা মানসিকভাবে চাঙা হলে পুঁজিবাজারের এ পরিস্থিতি কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী শেয়ার বিজকে বলেন, সারা বিশ্বের জন্য করোনা হুমকি স্বরূপ। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মানুষই এটার মোকাবিলা করছেন। তাদের সঙ্গে আমাদেরও এটা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। করোনার মধ্যে পৃথিবীর কোথাও কিন্তু দীর্ঘদিন পুঁজিবাজার বন্ধ থাকতে দেখা যায়নি। সেসব দেশের বিনিয়োগকারীরা কিন্তু ভালোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। বাজারেও করোনার প্রভাব তেমন দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশে এর উল্টো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এর জন্য বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা ছাড়া আর কিছু দায়ী না।

একই প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তা থাকার কথা নয়। এ কথা সত্যি যে, পুঁজিবাজারে অর্থ ও ভালো শেয়ারের অভাব বহু আগে থেকেই রয়েছে। তবে বাজারের এ পরিস্থিতির জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাই দায়ী। তারা অল্পতে হতাশ হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে মনে হয় না। তারাও সম্ভবত করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..