দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

করোনাকালে সতর্ক অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: করোনাভাইরাস-উদ্ভূত মহামারি চলাকালে দীর্ঘদিন পর পুঁজিবাজার খোলা হয়েছে। বাজার খোলার জের ধরে লেনদেনে ফিরে এসেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তবে বাজারে ফিরে বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন তারা। করোনা পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে নগদ অর্থ হাতে রাখতে চাইছেন তারা। এতে লেনদেনেও খরা দেখা দিয়েছে।

সাধারণ ছুটির পর পুঁজিবাজারে তিন দিন হলো লেনদেন চালু হয়েছে। এর মধ্যে এক দিনও ২০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়নি। প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৪৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট। পরের কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আবারও লকডাউন বাড়ছে এমন গুজব ছড়ায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন বিক্রির চাপ বাড়ে। ফলে লেনদেন কিছুটা বেড়ে হয় ১৯৭ কোটি টাকা। গতকাল সে লেনদেন নেমে এসেছে ১৫৫ কোটি টাকায়।

অন্যদিকে লেনদেন কমার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সূচকেরও অবনতি হচ্ছে। প্রথম দিন ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ৫২ পয়েন্ট। এতে কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু পরের কার্যদিবসেই বাজারের ছন্দপতন ঘটে। সূচক বৃদ্ধি পাওয়ার বদলে ৬২ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশের বেশি কমে যায়। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। সকালে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে নেমে আসে পতন, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ২৯ পয়েন্ট কমে ডিএসইর প্রধান সূচকের অবস্থান হয়েছে তিন হাজার ৯৬৯ পয়েন্টে।

এদিকে খাতভিত্তিক লেনদেনে চোখ রাখলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল প্রকৌশল খাতের শেয়ারে। সকাল থেকে এই খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের ভিড় লক্ষ করা যায়। গতকাল মোট ১২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তার মধ্যে এই খাতের কোম্পানির সংখ্যা ছিল চারটি।

প্রকৌশল খাতের পরের অবস্থানে ছিল ব্যাংকিং খাতে। অন্যদিনের তুলনায় এই খাতের শেয়ারে আগ্রহ ছিল বিনিয়োগকারীদের। তবে ফ্লোর প্রাইস হিসাব করার কারণে দিন শেষে এই খাতের ৮৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল।

প্রকৌশল খাতের পরের অবস্থানে দেখা যায় বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ। তবে ব্যাংকের মতো এই খাতেরও সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া সিমেন্ট, পাট, বস্ত্রসহ প্রায় সব খাতের কোম্পানির শেয়ারদরই গতকাল অপরিবর্তিত দেখা যায়।

অন্যদিকে গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচকের মতো অপর সূচকগুলোও নি¤œমুখী দেখা যায়। এদিন ডিএসইতে মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ১২টির বা চার শতাংশের, শেয়ারদর কমেছে ৫৩টির বা ১৮ শতাংশের এবং ২২৯টির বা ৭৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিকে অন্য দুই দিনের মতো গতকালও ব্রোকারেজ হাউসগুলো ছিল বিনিয়োগকারী শূন্য। যে লেনদেন হয়েছে তার প্রায় সবই টেলিফোনে লেনদেন। একইভাবে আগের দুই কার্যদিবসের মতো গতকালও বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ পুঁজিবাজার বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন তারা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারছিলেন না। এছাড়া দেশের সার্বিক অবস্থা কোন দিকে যায়, এটা ভেবেও টাকা উত্তোলন করছেন তারা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..