দিনের খবর সারা বাংলা

যশোরে মাছের পোনা উৎপাদন ও আঞ্চলিক পত্রিকা ছাপানো বন্ধ

প্রতিনিধি, যশোর

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে যশোরাঞ্চলের সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় যশোরের বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন জনশূন্য। তবে সড়কে কিছু রিকশা ও ইজিবাইক চালকসহ জরুরি কাজে কিছু মানুষকে বের হতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে সড়কে মানুষের চলাচল একেবারে নেই বললেই চলে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। মানুষকে ঘরে রাখতে অব্যাহত রয়েছে সেনাটহল। সঙ্কট মোকাবিলার প্রস্তুতিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। এদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে হ্যাচারিতে মাছের রেণু ও পোনা উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতি। অন্যদিকে বিপনন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যশোর থেকে প্রকাশিত স্থানীয় সব দৈনিক পত্রিকা।

রিকশাচালক রহমান বলেন, ঘরে ৫টি মুখ। দিনে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে। সকালে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। মাত্র ৫০ টাকা আয় হয়েছে। এখনই বাড়ি চলে যাব। শহরে সেনাটহল দিচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, মানুষ যাতে ঘরে থাকে সেজন্য আমরা উদ্ভুদ্ধ করছি। যশোরে ৮ প্লাটুন সেনা নামানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরো নামবে।

সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় রেনুপোনা খাতকে রক্ষায় হ্যাচারি মালিকদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ২৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে হ্যাচারিতে মাছের রেনু ও পোনা উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।

অন্যদিকে, যশোর জেলা সংবাদপত্র পরিষদ জানিয়েছে, বিপণন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যশোর থেকে প্রকাশিত সব দৈনিক পত্রিকা।

যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদ জানিয়েছেন, ২৭ মার্চ থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত করোনা ইস্যুতে যশোর সংবাদপত্র পরিষদের ঘোষিত পত্রিকা বন্ধের সিদ্ধান্ত কর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

দৈনিক গ্রামের কাগজের বার্তা সম্পাদক সরোয়ার হোসেন জানান, সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাছাড়া বিপণন কর্মীদের অনীহা ও গণপরিবহন বন্ধের কারণে সংবাদপত্র পরিষদ পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..