আজকের পত্রিকা

করোনাভাইরাসে চীনে একদিনে গেল ৯৭ প্রাণ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১০

ডেস্ক রিপোর্ট:
চীনে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১০ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ হাজার।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, গতকাল রবিবার একদিনেই এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৯৭ জন। আর নতুন ৩০৬২ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় চীনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ১৭১ জনে।

এছাড়া আরো এক লাখ ৮৭ হাজার ৫১৮ জনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত তিন হাজার ২৮১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২০০২-০৩ সালে বিশ্বজুড়ে সার্স মহামারিতে হতাহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের ২৪টিরও বেশি দেশে সার্স ভাইরাসে মারা যায় ৭৭৪ জন।

চীনের মূল ভূখণ্ডে এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতদের মধ্যে একজন জাপানি ও একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, বাকিরা চীনা নাগরিক। মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত ফিলিপাইন ও হংকংয়ে দুই চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। চীনের বাইরে অন্তত ২৫টি দেশে ২৫০ জনের বেশি মানুষের দেহে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন এ করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালাতে চীনে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটি শনিবার বলেছে, নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। একইসাথে সতর্ক করে বলেছে যে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে কিনা তা এখনো বলা যাচ্ছে না। গত ৩০ জানুয়ারি প্রাদুর্ভাবটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অপরদিকে চীনে আজ নতুন চন্দ্র বর্ষের ছুটি শেষ করে কর্মক্ষেত্রে ফিরবে লাখ লাখ মানুষ। এর আগে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এই ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে কাজের সময়ের মধ্যে পরিবর্তন আনা ও নির্দিষ্ট কিছু কর্মক্ষেত্র খোলা।

নতুন এই ভাইরাসটি প্রথমে শনাক্ত করা হয়েছিল চীনের হুবেই পদেশের উহানে। এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার শহরটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মূলত অচল হয়ে রয়েছে।

এদিকে হংকংয়ে কোয়ারেন্টিন করে রাখা একটি প্রমোদতরীর যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের কোনো চিহ্ন না থাকায় তাদেরকে ক্রুজ ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর আগের একটি ক্রুজের আট যাত্রীর মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর দ্য ওয়ার্ল্ড ড্রিম নামে ওই ক্রুজটিকে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছিল।

অন্য একটি জাহাজ জাপান উপকূলে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে যার আরোহীদের অনেকের মধ্যেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়াা গেছে।
-বিবিসি

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..