সুস্বাস্থ্য

করোনাভাইরাস কেমন আছেন সেবিকারা?

চীন থেকে উদ্ভূত করোনাভাইরাস এখন সারা বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত। মারণব্যাধি এ ভাইরাসে কতজন আক্রান্ত হলো, কয়জন মারা গেল, কিংবা কতজনই সুস্থ হলোএ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকি হচ্ছে। টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড যেন এ ভাইরাস। আক্রান্তদের দিনরাত সেবা-শুশ্রুষা যারা করছেন, তাদের কী অবস্থা, তারা কেমন আছেনÑসে বিষয়ে যেন কারও মাথাব্যথা নেই। তাদের সম্পর্কে না জানলে কি চলে? তাই জেনে নিতে পারেন জীবনরক্ষাকারী সেসব সেবিকা কেমন আছেন:

চীনের হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মীর মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। দীর্ঘসময় মাস্ক পরে ক্লান্ত শরীরে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মুখে দেখা দিয়েছে ভয়ংকর ছোপ ছোপ দাগ। ঘুমাতে না পেরে মাঝেমধ্যে হাসপাতালেই চিৎকার করে কাঁদছেন তারা। এরই মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মারাও গেছেন অনেকে। এছাড়া সেবা দিতে অন্য প্রদেশ থেকে অনেককে যেতে হয়েছে মৃতপুরী উহান শহরে। সেখানে যাওয়ার আগে পরিবার থেকে শেষ বিদায় নিতে হয়েছে তাদের, কারণ সেখানে সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন করুণ দৃশ্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে বিশ্ববাসীকে।

চীনের উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী বা প্রধান শহর উহান। এখান থেকেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়, যা বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ শহরে হাজার হাজার আক্রান্ত রোগীকে যারা চিকিৎসা ও সেবা দিচ্ছেন, তারা ঠিকমতো খাওয়া কিংবা ঘুমানোর সময় পাচ্ছেন না। হাসপাতালগুলো থেকে জানা যায়, বেশিরভাগ কর্মী হাসপাতালের চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন, তবে তা অল্প সময়ের জন্য। তা শেষ হতে না হতেই তাদের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হচ্ছে। অনিদ্রা আর টানা পরিশ্রমের কারণে অবসাদগ্রস্ত অনেকেই চেয়ারে বসে অঝোরে কাঁদছেন। রোগীদের সেবায় তারা এতটাই ব্যস্ত যে সঠিক সময়ে টয়লেটে পর্যন্ত যাওয়ার সময় পান না। তার ওপর ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক মাস্ক, চশমা ও সুরক্ষিত পোশাকসহ নানা কিছু দিয়ে শরীর মুড়িয়ে রাখতে হচ্ছে তাদের। এরপরও তাদের কেউ আক্রান্ত হয়ে সেখানেই চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছেন, কেউবা জীবন হারাচ্ছেন।

দীর্ঘসময় মাস্ক ও সুরক্ষিত পোশাক পরে থাকায় তাদের মুখ ও শরীরে ফোস্কা পড়ছে। ঘা-সহ নানা ধরনের দাগ দেখা দিয়েছে। এমনকি দেহে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের এমন অবস্থা হয়েছে যে চোখ খুলে ভালো করে তাকাতেও পারছেন না। এমন নারকীয় যন্ত্রণা তাদের সহ্য করতে হচ্ছে। শুধু করোনাভাইরাসের জন্যই নয়, শরীরে এমন বেহাল দশার কারণেও তাদের মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। চীনে করোনোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ জীবন হারিয়েছে।

  কামরুন নাহার ঊষা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..